দেশে ফেরার জন্য ট্রাভেল পাস (ভ্রমণ অনুমতিপত্র) সংগ্রহ করতে এসে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে অরুণ নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে হাইকমিশনে এসে অপেক্ষারত অবস্থায় হঠাৎ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। তবে নিহতের স্বজন ও সেখানে উপস্থিত প্রবাসীদের অভিযোগ, হাইকমিশন কর্তৃপক্ষের অবহেলা এবং সময়মতো অ্যাম্বুলেন্স না ডাকার কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
নিহত অরুণের বাড়ি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররোহিতা গ্রামে। তাঁর বাবার নাম সোলেমান হায়দার। জানা গেছে, অরুণ আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন এবং সম্প্রতি তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে সেখানকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাও নিয়েছিলেন। মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় তিনি দেশে ফিরে চিকিৎসা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই উদ্দেশ্যেই দেশে ফেরার ট্রাভেল পাস নিতে সোমবার তিনি স্ত্রী শাহানাজকে নিয়ে হাইকমিশনে গিয়েছিলেন।
নিহতের স্বজন ও উপস্থিত কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশির অভিযোগ, অসুস্থ হয়ে পড়ার পর হাইকমিশনের চরম অবহেলায় অরুণের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের দাবি, অরুণ অসুস্থ হয়ে পড়ার এক ঘণ্টারও বেশি সময় পর কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয়। অথচ মালয়েশিয়ায় সাধারণত খবর দেওয়ার ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যেই অ্যাম্বুলেন্স চলে আসে। সময়মতো চিকিৎসাসেবা পেলে হয়তো তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হতো বলে আক্ষেপ করেন তাঁরা।
আরও
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস সচিব তরিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে হাইকমিশনের পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে অরুণের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে দ্রুত তাঁর মরদেহ দেশে পাঠানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও ওই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
জীবিকার তাগিদে ২০১২ সালে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন অরুণ। এরপর ২০১৭ সালে স্ত্রী শাহানাজকেও নিজের কাছে নিয়ে যান তিনি। বাংলাদেশে তাঁদের ১৮ বছর বয়সী এক ছেলে রয়েছে। অসুস্থ শরীরে দেশে ফিরে চিকিৎসা নেওয়ার স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই অরুণের এমন মৃত্যুতে তাঁর পরিবারে এখন গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।










