সর্বশেষ

মালয়েশিয়ায় ৮৫ বাংলাদেশির মানবেতর জীবন, জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি

LabourProbashircityWebPopupUpdate

উন্নত জীবনের আশায় মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমানো ৮৫ জন বাংলাদেশি শ্রমিকের স্বপ্ন এখন চরম দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। ২০২৩ সালের আগস্টে দেশীয় রিক্রুটিং এজেন্সি মেরিট ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের মাধ্যমে জোহর রাজ্যের পাসির গুদাং এলাকার একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কাজ নিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু গত ছয় মাস ধরে বেতন ও ওভারটাইমের অর্থ না পাওয়ায় চরম অমানবিক জীবন যাপন করছেন এই প্রবাসীরা। এর ওপর গত ২২ জানুয়ারি থেকে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান খাবার সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ায় পবিত্র রমজান মাসেও তাঁদের রীতিমতো অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে।

ভুক্তভোগী শ্রমিকেরা জানান, বর্তমানে স্থানীয় বাংলাদেশিদের দেওয়া জাকাত ও সহায়তার ওপর নির্ভর করে কোনোমতে টিকে আছেন তাঁরা। অনেক সময় কেবল পানি দিয়ে ইফতার এবং আগের দিনের বেঁচে যাওয়া পান্তা ভাত খেয়ে সাহ্‌রি সারতে হচ্ছে তাঁদের। দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর গত জানুয়ারিতে মালয়েশিয়ার শ্রম দপ্তরে (জেটিকে) বকেয়া বেতনের অভিযোগ জানালে উল্টো নানা হয়রানি শুরু করে কোম্পানি। অভিযোগ তোলার জেরে ইতিমধ্যে ছয়জন শ্রমিকের ভিসা বাতিল করা হয়েছে এবং একজনের ভিসা আট মাস ধরে নবায়ন করা হচ্ছে না। এ ছাড়া আগামী ১৮ মার্চ আরও আটজনের ভিসার মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। এমনকি ভয়ভীতি দেখিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে কোম্পানির বিরুদ্ধে, যা দিয়ে ভবিষ্যতে পাওনা আত্মসাতের আশঙ্কা করছেন অসহায় কর্মীরা।

1

এই চরম সংকটে কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাছে গিয়েও কাঙ্ক্ষিত সহায়তা পাননি বলে আক্ষেপ করেছেন শ্রমিকেরা। তাঁদের দাবি, হাইকমিশন কার্যকর কোনো কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ না করে উল্টো কোম্পানির পক্ষেই কথা বলছে। যদিও হাইকমিশনের পক্ষ থেকে অন্তত দুই মাসের বকেয়া আদায়ের বিষয়ে আশ্বস্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, মালয়েশিয়ার শ্রম বিভাগ আগামী ১৭ এপ্রিল নিয়োগকর্তার সঙ্গে একটি বিশেষ বৈঠকের দিন ধার্য করেছে। তবে শ্রমিকদের অভিযোগ, কোম্পানি আদালতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে সময়ক্ষেপণ করছে, ফলে পুরো বিচারপ্রক্রিয়াই দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

শ্রমিকদের এসব অভিযোগের বিষয়ে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান ইভিএসবির মুখপাত্র ল ইয়িক হুই জানান, তাঁরা বিষয়টি নিয়ে শ্রম বিভাগের সঙ্গে কাজ করছেন এবং কর্মীদের কোনো বকেয়া দিতে অস্বীকৃতি জানাননি। শ্রমিকদের খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার দাবি করার পাশাপাশি তিনি জানান, বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সমঝোতা কাঠামোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে কোম্পানির এই সহায়তার দাবি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন শ্রমিকেরা। দেশে থাকা পরিবার ও ঋণের চাপে দিশাহারা এই প্রবাসীরা দ্রুত তাঁদের সব বকেয়া পরিশোধ এবং অন্য কোথাও কাজের সুযোগ পেতে ‘রিলিজ লেটার’ বা ছাড়পত্র দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আরও দেখুনঃ

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

ProbashircityWebPopupUpdate
ProbashircityWebBannerUpdate