মালয়েশিয়ায় মেডিসিরাম ও কাওয়াগুচি কোম্পানির নির্যাতনের শিকার বাংলাদেশি শ্রমিকদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ, বকেয়া মজুরি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১০ নভেম্বর) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনের আয়োজন করে মাইগ্রেন্ট ওয়েলফেয়ার নেটওয়ার্ক মালয়েশিয়া এবং বাংলাদেশভিত্তিক একটি প্রবাসী সংগঠন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন, মালয়েশিয়া ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় আধুনিক দাসত্বের শিকার ভুক্তভোগী শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের অব্যবস্থাপনার কারণে অনেক শ্রমিক প্রতিশোধমূলক আচরণ ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
বক্তারা জানান, মেডিসিরাম কোম্পানির শ্রমিকরা বছরের পর বছর বিলম্বিত বেতন, হুমকি, অমানবিক বাসস্থান ও নির্যাতনের মধ্যে ছিলেন। কোম্পানি তাদের পাসপোর্ট জব্দ করে রাখায় তারা কার্যত বন্দি অবস্থায় ছিলেন। এমনকি কাজের অনুমতিপত্র নবায়ন না হওয়ায় অনেকে অবৈধ হয়ে পড়েন। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ১৫ জন শ্রমিককে জোরপূর্বক দেশে পাঠানো হয়, কারণ তারা বকেয়া মজুরি ও রিক্রুটমেন্ট ফি ফেরতের দাবি তুলেছিলেন।
আরও
একইভাবে কাওয়াগুচি কোম্পানির বিরুদ্ধেও বেতন অনিয়ম ও শোষণের অভিযোগ আনা হয়। বক্তারা জানান, ২০২২ সাল থেকে কোম্পানিটি শ্রমিকদের নিয়মিত বেতন দেয়নি, ফলে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্তত সাত মাস তারা কোনো বেতন পাননি। যদিও কিছু শ্রমিক আংশিক ক্ষতিপূরণ ও ফি ফেরত পেয়েছেন, বকেয়া বেতন এখনো পরিশোধ করা হয়নি। মালয়েশিয়ার শ্রম দপ্তর গত ডিসেম্বরের সমঝোতা বৈঠকে বকেয়া মজুরি পরিশোধের নির্দেশ দিলেও, কোম্পানির তাইওয়ানি মালিক এখনো প্রায় ৩০ লাখ রিঙ্গিত পরিশোধ করেননি।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগী শ্রমিকদের পক্ষ থেকে সাতটি দাবি উত্থাপন করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে — মেডিসিরাম শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ প্রদান, জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো বন্ধ, কোম্পানির মালিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ, কাওয়াগুচি শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধ, বাংলাদেশ হাইকমিশনের কার্যক্রমে সংস্কার এবং শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা। বক্তারা বলেন, “আমরা মানুষ হিসেবে অধিকার চাই, ভিক্ষা নয় — যেন শ্রমিকদের আর কখনো পশুর মতো আচরণের শিকার হতে না হয়।










