সর্বশেষ

প্রথমবারের মতো জাহাজে হামলার ফুটেজ প্রকাশ করে বার্তা দিলো ইরান

Image 325435Web Popup (3)

হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) হামলার একটি বিরল ভিডিও ফুটেজ প্রথমবারের মতো প্রকাশ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা এবং অবৈধভাবে চলাচলকারী জাহাজকে নিরাপদে পার করে দেওয়ার যে দাবি করা হয়েছিল, মূলত তারই পাল্টা জবাব হিসেবে প্রেস টিভির মাধ্যমে এই ভিডিওটি প্রকাশ্যে আনল তেহরান। শনিবার প্রকাশিত এই ভিডিওতে হরমুজ প্রণালিতে ইরানি নৌবাহিনীর কঠোর নজরদারি এবং মার্কিন নির্দেশনা অমান্যকারী একাধিক জাহাজে সুনির্দিষ্ট হামলার চাঞ্চল্যকর দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রকাশিত ভিডিওর শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের বিভিন্ন বক্তব্যের অংশবিশেষ জুড়ে দেওয়া হয়, যেখানে তাঁরা হরমুজ প্রণালির ওপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ ও পথ নিরাপদ করার দাবি করেছিলেন। তবে এর ঠিক পরেই আইআরজিসির পক্ষ থেকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র যে প্রণালি খোলা রাখা ও জাহাজ নিরাপদে পার করার দাবি করছে, তার ওপর যেন কেউ নির্ভর না করে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর এসকর্ট অভিযানকে বড় ধরনের মিথ্যা উল্লেখ করে আইআরজিসি জানায়, এই অঞ্চলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্রই সবচেয়ে বড় হুমকি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ভিডিও প্রকাশের ঘটনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর আগে কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ ধরনের হামলার ভিডিও প্রকাশ করে আসছিল। এই প্রথম ইরানি গণমাধ্যমে সরাসরি হামলার দৃশ্য প্রচার করা হলো। রুশ ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষক এবং বিবিসির অতিথি আলোচক আরমান মাহমুদিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ইরানি গণমাধ্যম হামলাগুলোকে এড়িয়ে না গিয়ে বরং সেগুলোকে ‘আগ্রাসীকে শাস্তি দেওয়ার’ অভিযান হিসেবে অত্যন্ত জোরালোভাবে উপস্থাপন করেছে। ভিডিওটিতে ফরাসি প্রতিষ্ঠান সিএমএ সিজিএমের একটি জাহাজসহ অন্তত দুটি জলযানে গত ৫ মে প্রজেক্টাইল আঘাত হানার দৃশ্য স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা গেছে।

এর আগে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি জাহাজ এবং অনুমতি ছাড়া চলাচলকারী আরও তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে তারা সফল হামলা চালিয়েছে। মূলত ইরানের নিজস্ব তেলবাহী ট্যাংকারের ওপর মার্কিন হামলার জবাব দিতেই এই প্রতিশোধমূলক অভিযান চালানো হয় বলে দাবি আইআরজিসির। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে তেহরান এই কৌশলগত প্রণালিটি বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৬০ দিনের জন্য পথটি চালুর একটি সমঝোতা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ এনে ইরান তা আবার বন্ধ করে দেয়। তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার, লেবাননসহ সব ফ্রন্টে হামলা বন্ধ এবং ইয়েমেনের ওপর থেকে অবরোধ না ওঠা পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে না।

আরও দেখুন

 

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন news@probashtime.com মেইলে।

Web Popup (3)
Web Squre popup