Long Popup (2)
সর্বশেষ

বাঙ্কারে লুকিয়ে আছেন মোজতবা খামেনি, বার্তা আদান-প্রদান করেন যেভাবে

Image 294512ProbashircityWebPopupUpdate

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার পর কঠোর নিরাপত্তার স্বার্থে বর্তমানে অজ্ঞাত স্থানে আত্মগোপনে রয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। বাইরের বিশ্বের সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন বললেই চলে; তথ্য আদান-প্রদানের জন্য তিনি নির্ভর করছেন অত্যন্ত জটিল ও গোপনীয় একটি কুরিয়ার নেটওয়ার্কের ওপর। রোববার (২৪ মে) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। মূলত এই ধীরগতির যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সম্ভাব্য চুক্তি বা সমঝোতার ক্ষেত্রে ব্যাপক দীর্ঘসূত্রতা দেখা যাচ্ছে।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো চুক্তির খসড়া বা প্রস্তাব পাঠানো হলে তা সর্বোচ্চ নেতার কাছে পৌঁছাতে এবং তার জবাব পেতে উল্লেখযোগ্য সময় লেগে যায়। এই সীমাবদ্ধতার কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করার অনুমতি পাওয়া ইরানি কর্মকর্তারাও নিজেদের সরকারি পর্যায়ে যোগাযোগ রক্ষা করতে হিমশিম খাচ্ছেন। তবে প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, ধীরগতি সত্ত্বেও বর্তমান খসড়া চুক্তির মূল কাঠামোর বিষয়ে খামেনি সম্মতি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে আহত হওয়ার পর থেকেই নিজের নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছেন মোজতবা খামেনি। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি তার বাবা ও তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে যেভাবে লক্ষ্যবস্তু করে হত্যা করা হয়েছিল, মূলত সেই পরিণতি এড়াতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উচ্চপদস্থ একাধিক শীর্ষ নেতাকে নির্মূল করার পর বর্তমানে ইরানের অধিকাংশ নেতাই দিনের আলো এড়িয়ে চলছেন। সপ্তাহের পর সপ্তাহ তারা কড়া নিরাপত্তায় ঘেরা সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে অবস্থান করছেন এবং একান্ত প্রয়োজন ছাড়া নিজেদের মধ্যকার যোগাযোগও প্রায় বন্ধ রেখেছেন।

সর্বোচ্চ নেতাকে ঘিরে ইরানের এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা এতটাই নিশ্ছিদ্র যে, খোদ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেক কর্মকর্তাও তার সঠিক অবস্থান সম্পর্কে অবগত নন। সরাসরি যোগাযোগের কোনো উপায় না থাকায় বিশেষ কুরিয়ার ব্যবস্থার মাধ্যমে তাকে বার্তা পাঠানো হয়, যার ফলে যেকোনো তথ্য বা মতামত পৌঁছাতে অনেক দেরি হয়ে যায়। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এই সীমিত যোগাযোগের মধ্যেই মোজতবা খামেনি তার অধীনস্থদের আলোচনার বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা ও সীমারেখা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। বর্তমানে ইরানি আলোচকরা সেই নির্দিষ্ট সীমার ভেতরে থেকেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং যেকোনো চূড়ান্ত পদক্ষেপের জন্য নেতার আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

ProbashircityWebPopupUpdate