পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন বা মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির কোনো লক্ষ্য তেহরানের নেই বলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি জানিয়েছেন, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না। রোববার (২৪ মে) এক বক্তব্যে পারমাণবিক ইস্যু ও আঞ্চলিক রাজনীতি নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর আগের ঘোষণার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, বিশ্ববাসীকে আশ্বস্ত করার সেই পুরোনো অবস্থানেই এখনো অটল রয়েছে তেহরান। এ সময় তিনি মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার জন্য উল্টো ইসরায়েলকে দায়ী করেন। তিনি জানান, বৃহত্তর ইসরায়েল গঠনের যে স্বপ্ন তেল আবিব দেখছে, মূলত সেটিই এই অঞ্চলকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তবে নিজেদের এই শান্তিকামী অবস্থানের কথা জানালেও, আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে দেশের সম্মান ও মর্যাদার প্রশ্নে ইরানের আলোচকরা কোনো ধরনের আপস করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি।
ইরানের এই আশ্বাসের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দাবি অবশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেশ দুটির গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে ৪০০ কিলোগ্রামেরও বেশি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত রয়েছে। প্রযুক্তিগত দিক থেকে এই ইউরেনিয়াম পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ঠিক পূর্ববর্তী ধাপে রয়েছে। পশ্চিমা বিশ্লেষকদের মতে, মজুতকৃত এই বিপুল পরিমাণ ইউরেনিয়ামকে আর সামান্য সমৃদ্ধ করলেই তা দিয়ে অনায়াসেই ১১টি পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব।
আরও
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে অঞ্চলটিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। তেহরান, ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদের একাধিক সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে, চলমান এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে বর্তমানে একটি সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। এই কূটনৈতিক উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ অন্যান্য অমীমাংসিত ও বিতর্কিত ইস্যুতে আন্তর্জাতিক আলোচনার পথ আরও সুগম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।










