ইরানের রাজধানী তেহরান এবং এর আশেপাশের এলাকায় একটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। বুধবার (১৩ মে) ভোররাতে অনুভূত হওয়া এই কম্পনটির রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৬। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘মেহের’-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ভোরবেলার এই আকস্মিক কম্পনে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও, তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় গণমাধ্যম ও আবহাওয়া দপ্তরের বরাত দিয়ে মেহের নিউজ জানায়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানী তেহরানের উত্তর-পূর্বে এবং মাজানদারান প্রদেশের সীমান্তবর্তী একটি পার্বত্য এলাকায়। ইরানের ভূতাত্ত্বিক জরিপ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় ঠিক সকাল ১১টা ৪৭ মিনিটে কম্পনটি প্রথম আঘাত হানে। যদিও ভোরে অনুভূত হওয়ার কথা বলা হয়েছে, সংবাদ সংস্থার দেওয়া স্থানীয় সময় অনুযায়ী এটি বেলা ১১টার পরের ঘটনা। কম্পনটি প্রায় ১০ সেকেন্ড ধরে স্থায়ী ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। সাধারণত ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি গভীরতায় উৎপত্তি হওয়া ভূমিকম্পগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি বেশি থাকে। তবে এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল জনবহুল এলাকা থেকে কিছুটা দূরে হওয়ায় বড় বিপর্যয় এড়ানো গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভূমিকম্পের পরপরই সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এবং অন্যান্য জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
আরও
ইরান ভৌগোলিকভাবে বেশ কয়েকটি প্রধান ভূতাত্ত্বিক ফল্ট লাইনের ওপর অবস্থিত হওয়ায় দেশটি বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এর আগেও তেহরান এবং এর আশেপাশের এলাকায় একাধিক শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ভূমিকম্পের ইতিহাস রয়েছে। বুধবারের এই ভূমিকম্পের পর প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, এই ঘটনায় কোনো হতাহত বা অবকাঠামোগত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।










