ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর এবার আন্দোলনকারী তরুণদের আরও দুটি বড় দাবি মেনে নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার। নিট বা মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশজুড়ে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব ধরনের মামলা বা এফআইআর প্রত্যাহার করা হবে এবং পরীক্ষায় অনিয়মের জেরে হতাশাগ্রস্ত হয়ে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে সম্মানসূচক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
শনিবার সিজেপি নেতাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাঁদের দ্বিতীয় প্রধান দাবি ছিল আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সব মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা। কেবল দিল্লি নয়, বিজেপি এবং তাদের মিত্রশাসিত অন্যান্য রাজ্যেও যেসব এফআইআর দায়ের হয়েছে, তার সবই তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার। সিজেপি নেতারা জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁদের আশ্বস্ত করেছে যে খুব দ্রুত এসব মামলা প্রত্যাহার করা হবে এবং এর আগে দায়ের হওয়া প্রতিটি এফআইআরের অনুলিপি তাঁদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এখন পর্যন্ত দিল্লিতে ১৫ থেকে ২০টি এফআইআর দায়ের হওয়ার তথ্য তাঁদের কাছে রয়েছে, যার অনুলিপি আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে পাওয়া যাবে বলে তাঁরা আশা করছেন। বিষয়টির একটি লিখিত নিশ্চয়তা চেয়ে সরকারের কাছে ইতিমধ্যে একটি খসড়া জমা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা এবং আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে এ বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক লিখিত গ্যারান্টি পাওয়ার ব্যাপারে তাঁরা দৃঢ় আশাবাদী।
ক্ষতিপূরণের বিষয়ে সিজেপির অন্যতম নেতা সৌরভ দাস জানিয়েছেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার পর পরীক্ষা নিয়ে সৃষ্ট হতাশা থেকে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে সম্মানজনক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যাপারে পরিষ্কার আশ্বাস পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য, ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর গত দুই মাসের বেশি সময় ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা বিক্ষোভ চালিয়ে আসছিলেন তরুণেরা। তাঁদের প্রধান দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, যা শনিবার সকালেই পূরণ হয়েছে। এরপরই তাঁরা ক্ষতিপূরণ প্রদান, দেশজুড়ে মামলা প্রত্যাহার এবং আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করা পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাসহ সরকারের আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে সোচ্চার হন।










