ভারতের রাজধানী দিল্লির নেহরু এলাকায় সকালে চা পান করতে গিয়ে চরম হেনস্তার শিকার হয়েছেন দুই নারী। অভিযোগ উঠেছে, একদল উগ্র ব্যক্তি প্রকাশ্যে তাদের আক্রমণ করে এবং একজনের পোশাক টেনে ছিঁড়ে ফেলে। সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয় হলো, ঘটনাস্থলে অনেক সাধারণ মানুষ উপস্থিত থাকলেও কেউ এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদ করতে এগিয়ে আসেননি; বরং অনেকেই নীরব দর্শক হিসেবে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং কেউ কেউ হাসাহাসিও করেছেন। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার কথা জানা গেছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত রোববার সকাল ৭টার দিকে ওই দুই নারী স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে চা পান করছিলেন। এমন সময় আচমকা কয়েকজন ব্যক্তি তাদের উদ্দেশে অশালীন ও কটূক্তিমূলক মন্তব্য করতে শুরু করে। নারীদের একজন এর প্রতিবাদ করলে উত্ত্যক্তকারীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে আক্রমণকারীরা এক নারীর পোশাক টেনে ছিঁড়ে ফেলে। এছাড়া ভুক্তভোগীদের একজন প্রকাশ্যে যৌন হেনস্তা বা শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন বলেও পুলিশের কাছে গুরুতর অভিযোগ করেছেন।
বার্তাসংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হেনস্তার শিকার এক নারী জানান, তাঁরা অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে দাঁড়িয়ে চা খাচ্ছিলেন। তখনই বিনা উসকানিতে তাঁদের হেনস্তা করা শুরু হয়। তাঁরা এর প্রতিবাদ করলে ওই উগ্র ব্যক্তিরা আশপাশ থেকে আরও লোকজনকে জড়ো করে, যাদের মধ্যে অনেকেই মদ্যপ অবস্থায় ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই দুই নারীর মধ্যে একজন আসামের এবং অন্যজন বিহারের বাসিন্দা।
আরও
এদিকে, প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটা এই অমানবিক ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটিতে স্পষ্ট দেখা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ওই দুই নারীকে ঘিরে ধরে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মৌখিক হেনস্তা করছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর তীব্র সমালোচনার মুখে নড়েচড়ে বসে দিল্লি পুলিশ। পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তদন্ত শেষে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ফাহাদ, সাভেজ, আরিফ এবং ফাহিম নামের চার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।











