ভারতের মুম্বাইয়ে একই পরিবারের চার সদস্যের আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুরুতে ‘সংক্রমিত তরমুজ’ খাওয়ার কারণে এই মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়লেও পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে আসছে নতুন ও চাঞ্চল্যকর তথ্য। গতকাল শুক্রবার (১ মে) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মৃতদের শরীরে মরফিনের মতো শক্তিশালী ও সন্দেহজনক রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এর ফলে খাদ্যে বিষক্রিয়ার প্রাথমিক ধারণার মোড় ঘুরে পুরো ঘটনাটি এখন আরও বেশি রহস্যময় হয়ে উঠেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাতে। মুম্বাইয়ের ওই পরিবারটি তাদের বাড়িতে আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে এক বিশেষ নৈশভোজের আয়োজন করেছিল, যেখানে রাতের খাবার হিসেবে মাটন পোলাও পরিবেশন করা হয়। অতিথিরা খাওয়া দাওয়া শেষ করে চলে যাওয়ার পর রাত ১টার দিকে ওই পরিবারের সদস্যরা তরমুজ খান। এরপর ভোর ৫টার দিকে হঠাৎ করেই পরিবারের সবাই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের প্রত্যেকের মধ্যেই বমি ও ডায়রিয়ার মতো একই ধরনের উপসর্গ দেখা যায়, যাকে প্রাথমিকভাবে সাধারণ খাদ্যে বিষক্রিয়া বলেই মনে করা হয়েছিল।
কিন্তু হাসপাতালে নেওয়ার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওই চারজনের মৃত্যু হলে পুরো ঘটনার মোড় ঘুরে যায়। চিকিৎসকরা ময়নাতদন্তের পর জানিয়েছেন, মৃতদের মস্তিষ্ক, হৃদ্যন্ত্র ও অন্ত্রসহ অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন অঙ্গ সবুজাভ রঙ ধারণ করেছে, যা সাধারণ খাদ্যে বিষক্রিয়ার ক্ষেত্রে সচরাচর দেখা যায় না। তদন্তে সবচেয়ে বড় চাঞ্চল্যকর মোড় আসে যখন মৃতদের মধ্যে আবদুল্লাহ নামের একজনের শরীরে শক্তিশালী ব্যথানাশক ‘মরফিন’-এর উপস্থিতি ধরা পড়ে। এই রাসায়নিকটি কোনো চিকিৎসার অংশ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল নাকি অন্য কোনো মাধ্যমে সুকৌশলে তাদের শরীরে প্রবেশ করানো হয়েছে, তা এখন গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
আরও
এদিকে, মহারাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কেবল তরমুজ খেয়ে এমন মৃত্যুর কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো মেলেনি। তাছাড়া ওই রাতে উপস্থিত আত্মীয়রা একই পোলাও খেয়েও সুস্থ থাকায় তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে। বর্তমানে পুলিশ একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে ওই পরিবারের মানসিক অবস্থা এবং অন্য কোনো বাহ্যিক বিষপ্রয়োগের সম্ভাবনা তদন্ত করছে। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকরা এখনো চূড়ান্ত মতামত দেননি; তবে নিহত চারজনের ভিসেরা রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে, যার চূড়ান্ত রিপোর্ট এলেই এই রহস্যজনক মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।










