ভারতের পুনে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান রানওয়েতে আছড়ে পড়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) গভীর রাতে ঘটা এই ‘বেলি-ল্যান্ডিং’ বা চাকা ছাড়া অবতরণের কারণে বিমানবন্দরের একমাত্র রানওয়েটি দীর্ঘ সময় ধরে অবরুদ্ধ থাকে। এর জেরে শনিবার সকাল পর্যন্ত ওই বিমানবন্দর থেকে কয়েক ডজন যাত্রীবাহী ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ, যার ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ১০টা ২৫ মিনিটের দিকে অবতরণের সময় যুদ্ধবিমানটির ‘আন্ডারক্যারেজ’ বা চাকা ঠিকমতো কাজ করেনি। ফলে সেটি সরাসরি রানওয়েতে আছড়ে পড়ে এবং মাঝপথেই আটকে যায়। স্থানীয় পুলিশ এটিকে একটি ‘হার্ড ল্যান্ডিং’ বলে উল্লেখ করেছে। প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটি একটি সুখোই-৩০ এমকেআই মডেলের হতে পারে, যদিও ভারতীয় বিমানবাহিনীর (আইএএফ) পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিমানটির ধরন সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু জানানো হয়নি।
এই দুর্ঘটনার পর এক বিবৃতিতে ভারতীয় বিমানবাহিনী জানিয়েছে যে, বিমানে থাকা ক্রু সদস্যরা সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছেন এবং বেসামরিক কোনো সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল প্রতিমন্ত্রী মুরলীধর মোহল জানিয়েছেন, তিনি সার্বক্ষণিক বিমানবন্দর পরিচালক ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। দুর্ঘটনাকবলিত যুদ্ধবিমানটি সরিয়ে রানওয়ে পরিষ্কার ও পুনরায় সচল করতে অন্তত চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছিল।
আরও
যেহেতু পুনে বিমানবন্দরটি সামরিক ও বেসামরিক উভয় কাজেই ব্যবহৃত হয়, তাই রানওয়ে বন্ধ থাকায় এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ যাত্রীদের ওপর। শুক্রবার মধ্যরাতের পর থেকে বিমানবন্দরের কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে এবং অনেক যাত্রীকে বিমানবন্দরেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা যায়। রানওয়ে বন্ধ থাকায় ইন্ডিগোর ৬৫টি, এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের ১০টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৬টি, স্পাইসজেটের ৫টি এবং আকাসা এয়ারের ৫টিসহ বেশ কিছু ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এয়ারলাইনসগুলোর পক্ষ থেকে আটকে পড়া যাত্রীদের বিকল্প ফ্লাইটে গন্তব্যে পৌঁছানো অথবা টিকিটের সম্পূর্ণ মূল্য ফেরতের (রিফান্ড) প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।











