প্রযুক্তিগত ত্রুটি, জনবল সংকট এবং পরিচালনা–সংক্রান্ত জটিলতায় ভারতের শীর্ষস্থানীয় বিমান সংস্থা ইন্ডিগো (IndiGo) মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে দেশজুড়ে বিপুল সংখ্যক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। কর্মস্থলে পৌঁছানো, জরুরি চিকিৎসা গ্রহণ কিংবা নির্ধারিত ভ্রমণ পরিকল্পনা—সকল ক্ষেত্রেই ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে। অন্য এয়ারলাইন্সে যাত্রা করার চেষ্টা করলে অনেক যাত্রীকে দ্বিগুণ বা তিনগুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে।
এমনই এক পরিস্থিতির ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। আয়ুশ কুছওয়া নামের এক যাত্রী তার এক্স অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানবন্দরে উদ্বিগ্ন যাত্রীরা অপেক্ষা করছেন, অনেকে ফ্লাইট বাতিলের ফলে চাকরি হারানোর আশঙ্কায় কর্মস্থলের বসের সঙ্গে কথা বলছেন। এক যাত্রী অভিযোগ করেন, তাদের জানানো হয়েছে পাইলট অনুপস্থিত থাকায় ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, তবে পরবর্তী ফ্লাইট কখন ছাড়বে সে বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
ভিডিও পোস্ট করে আয়ুশ লিখেছেন, বিমানবন্দর বা এয়ারলাইন্স—কোনো পক্ষ থেকেই স্পষ্ট নির্দেশিকা বা সহায়তা দেওয়া হয়নি। আচমকা বাতিল হওয়া ফ্লাইটের কারণে যাত্রীরা প্রবল সমস্যায় পড়েছেন এবং দ্রুত সমাধান চান। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে, যেখানে অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ইন্ডিগোর বহু ফ্লাইট বাতিলের পেছনে নতুন কর্মবিধিও ভূমিকা রেখেছে। বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ সম্প্রতি পাইলটদের কর্মঘণ্টা ও বিশ্রাম–সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা দেয়। এর পর থেকেই বিমান সংস্থাটির ফ্লাইট পরিচালনায় সংকট তীব্র হয়। শুধু বৃহস্পতিবারই সংস্থাটি প্রায় ৫৫০টি ফ্লাইট বাতিল করে, আর শুক্রবার বাতিল হয় ৭০০–এর কাছাকাছি।
আরও
ইন্ডিগো ডিজিসিএ–কে জানিয়েছে, তারা ফেব্রুয়ারি ১০ তারিখের মধ্যে সব পরিচালনাগত সমস্যা সমাধান করে ফ্লাইট পরিষেবা স্বাভাবিক করার লক্ষ্য নিয়েছে। তবে ততদিন পর্যন্ত যাত্রীদের দুর্ভোগ অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।











