রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক তিনটি অভিযান চালিয়ে প্রায় ৭৮১ গ্রাম (৬৭ ভরি) স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপসহ চোরাচালান চক্রের সাত সদস্যকে আটক করেছে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। শনিবার (৩ অক্টোবর) দিনব্যাপী বিমানবন্দরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। উদ্ধারকৃত অন্যান্য সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১০টি স্মার্টফোন, দুটি ল্যাপটপ এবং তিন কার্টন বিদেশি সিগারেট। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে দেশে আনা এসব স্বর্ণ ও ইলেকট্রনিক পণ্যের ‘রিসিভার’ হিসেবে এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বিমানবন্দরে সক্রিয় ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এয়ারপোর্ট এপিবিএন সূত্র জানায়, শনিবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের গোলচত্বরের উত্তর পাশে প্রথম অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সুকৌশলে পালানোর চেষ্টাকালে সংঘবদ্ধ চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করা হয়। তাদের দেহ তল্লাশি করে ৪৮৪ দশমিক ২ গ্রাম স্বর্ণালংকার, আটটি মোবাইল, দুটি ল্যাপটপ ও সিগারেট জব্দ করা হয়। এই পাঁচজন হলেন—তোফাজ্জল হোসেন, জসিম উদ্দিন, আরাফাত হোসাইন, আরিফ ও মো. আলামিন গাজী। পরে আগমনী ২ নম্বর ক্যানোপিসংলগ্ন সড়ক থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে রূপবান বেগম নামের এক নারীকে আটক করে ৯৮ দশমিক ৭ গ্রাম স্বর্ণালংকার ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া মূল ফটকের পশ্চিম পাশ থেকে এম এ মতিন নামের আরেক ব্যক্তিকে ১৯৮ দশমিক ৪ গ্রাম স্বর্ণসহ আটক করেন এপিবিএন সদস্যরা।
আরও


প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন, বিদেশফেরত অজ্ঞাতনামা যাত্রীদের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে এসব স্বর্ণ ও অন্যান্য সামগ্রী চোরাচালানের উদ্দেশ্যে দেশে আনা হয়েছিল। তারা মূলত চোরাচালান সিন্ডিকেটের মাঠপর্যায়ের সংগ্রাহক হিসেবে কাজ করতেন। এ ঘটনায় অবৈধ পন্থায় চোরাচালানের অভিযোগে আটক সাতজনের বিরুদ্ধে শনিবার বিমানবন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।


বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ও চোরাচালান রোধের বিষয়ে এয়ারপোর্ট (১৩) এপিবিএনের পুলিশ সুপার (অপারেশনস) মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান বলেন, বিমানবন্দর এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধ ও অপরাধ দমনে এপিবিএন বরাবরের মতোই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। স্বর্ণ ও মাদক চোরাচালানসহ যেকোনো ধরনের অবৈধ তৎপরতা রুখে দিতে তারা বদ্ধপরিকর। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে সংঘটিত সব ধরনের চোরাচালান কার্যক্রম সমূলে উৎপাটন করতে এপিবিএনের এই গোয়েন্দা নজরদারি ও ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।









