পবিত্র কোরআন চর্চা ও হিফজ শিক্ষাকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে শরীয়তপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা ২০২৬’। সম্প্রতি ভেদরগঞ্জ উপজেলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি বিদ্যাপীঠ লাকার্তা জামিয়া ইসলামিয়া মাদরাসার ব্যবস্থাপনায় দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ‘কোরআনের ছোঁয়া ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’-এর শরীয়তপুর জেলা শাখা। শিশু-কিশোরদের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা এবং কোরআনের বিশুদ্ধ তিলাওয়াত ও মুখস্থ করার প্রতি আগ্রহ তৈরি করাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। ধর্মপ্রাণ মানুষ, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি এক উৎসবমুখর মিলনমেলায় পরিণত হয়।
প্রতিযোগিতায় শরীয়তপুরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা মেধাবী হাফেজ শিক্ষার্থীরা ৫ পারা ও ১০ পারা—এই দুটি বিভাগে অংশগ্রহণ করে। বিচারকমণ্ডলী অত্যন্ত নিপুণতার সঙ্গে তিলাওয়াতের মান, তাজভিদ ও নির্ভুলতার ভিত্তিতে প্রতিযোগীদের মূল্যায়ন করেন। কোরআন প্রতিযোগিতার পাশাপাশি এই আয়োজনে মানবিক সেবার এক অনন্য দৃষ্টান্তও স্থাপন করা হয়। আধ্যাত্মিক চর্চার সঙ্গে মানুষের মৌলিক সেবার সমন্বয়ে ডা. মোস্তফা কামাল আরেফিনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানস্থলে একটি বিনা মূল্যের চিকিৎসাসেবা বা ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালিত হয়, যা স্থানীয় ও উপস্থিত সবার ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে সভাপতিত্ব করেন লাকার্তা জামিয়া ইসলামিয়া মাদরাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা রিয়াজুল কারীম। নতুন প্রজন্মের সঙ্গে কোরআনের সম্পর্ক সুদৃঢ় করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, নিছক কোরআন মুখস্থ করাই হিফজ শিক্ষার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য নয়; বরং কোরআনের শাশ্বত শিক্ষাকে ধারণ করে একটি সুন্দর ও আদর্শ জীবন গঠন করাই এর মূল লক্ষ্য। আল ওয়াহদা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হাফেজ মাওলানা লুৎফর রহমানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় সম্পন্ন হওয়া এই আয়োজন সম্পর্কে আয়োজকেরা জানান, আগামী দিনে আরও বৃহৎ পরিসরে এমন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। এর মাধ্যমে দেশের আনাচে-কানাচে লুকিয়ে থাকা প্রতিভাবান হাফেজরা নিজেদের বিকশিত করার পাশাপাশি একটি আলোকিত ও নৈতিক সমাজ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।









