Opens in a new tab
সর্বশেষ

তালাকপ্রাপ্ত নারীকে বিয়ে, সাড়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা দিয়ে গ্রামছাড়া যুবক

Fine youtnWeb Popup (3)

শরীয়তপুরের জাজিরায় তালাকপ্রাপ্ত এক নারীকে বিয়ে করার ‘অপরাধে’ স্থানীয় গ্রাম্য সালিসে রতন সরদার (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা ও গ্রামছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী মাতবরদের ভয়ে গত নয় দিন ধরে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ওই ব্যক্তি। এ ঘটনায় নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার চেয়ে জাজিরা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বড়কান্দি ইউনিয়নের মনাই ছৈয়াল কান্দি গ্রামে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশে দেওয়া অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, মনাই ছৈয়াল কান্দি গ্রামের রুবেল শিকদার পারিবারিক কলহের জেরে গত বছরের (২০২৫) অক্টোবরে তাঁর স্ত্রী রুবিনা আক্তারকে তালাক দেন। এরপর গত ৩ আগস্ট রুবিনাকে বিয়ে করেন একই গ্রামের বাসিন্দা রতন সরদার। কিন্তু এই বিয়ে মেনে নিতে পারেনি রুবেলের পরিবার। তাঁরা রতনের বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ তুলে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করেন। এর জেরে গত ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সাবেক ইউপি সদস্য মতিউর রহমান খানের বাড়ির উঠানে পাঁচ শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে এক সালিস বৈঠক বসে। দীর্ঘ সেই বৈঠকে রতনের বিরুদ্ধে পরকীয়ার কোনো প্রমাণ না মিললেও তাঁকে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং পরদিন সূর্য ওঠার আগেই গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। জরিমানার টাকার মধ্যে নগদ ১০ হাজার এবং জমি বন্ধকের এক লাখ টাকা কেটে রেখে বাকি চার লাখ ৪০ হাজার টাকা এক মাসের মধ্যে তিন কিস্তিতে পরিশোধের নির্দেশ দেন সালিসকারীরা।

এই বিচার নিয়ে খোদ সালিসকারীদের মধ্যেই ভিন্নমত দেখা গেছে। সালিসে উপস্থিত মোশারফ বেপারী জানান, পরকীয়ার কোনো প্রমাণ না পেলেও কেবল বিয়ের কারণেই স্থানীয় প্রভাবশালীদের চাপে এই জরিমানা করা হয়েছে, যার তিনি প্রতিবাদ করেও কোনো ফল পাননি। অন্যদিকে আরেক সালিসকারী রাজ্জাক বেপারীর দাবি, রতনের কারণেই রুবেলের সংসার ভেঙেছে এবং তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাই ক্ষতিপূরণ হিসেবে এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তবে রতন সরদারের প্রথম স্ত্রীর দাবি, তাঁর পূর্ণ সম্মতিতেই স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন এবং এখানে তাঁদের কোনো অপরাধ নেই। রতন নিজেও জানান, তালাকের দীর্ঘ সময় পর তিনি রুবিনাকে বিয়ে করেছেন, অথচ তাঁকে অন্যায়ভাবে ফাঁসিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।

গ্রাম্য সালিসের নামে এমন চরম শাস্তির বিষয়ে জাজিরা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেহ আহাম্মদ জানান, ভুক্তভোগী রতন সরদারের কাছ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুরো বিষয়টি তদন্তের জন্য থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হেমায়েতকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

Web Popup (3)
Web Squre popup