Long Popup (2)
সর্বশেষ

এক বছরে প্রবাসে কর্মসংস্থান ৯ লাখ ৮৫ হাজার বাংলাদেশির, সৌদিতেই ৬ লাখের বেশি

Oman labour probashijpgCity

যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতায় ক্ষতিগ্রস্ত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ ও উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার হলে সেখানে বিদেশি শ্রমিকের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা জানান। তবে মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সংসদে এই প্রশ্নের উত্তর দেন প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের এই প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রী তাঁর লিখিত জবাবে উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংঘাত ও অস্থিরতার কারণে যেসব দেশের অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আগামী দিনে যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন ও নতুন অবকাঠামো নির্মাণের বড় ধরনের কর্মযজ্ঞ শুরু হতে পারে। এর ফলে বিভিন্ন খাতে দক্ষ ও অদক্ষ উভয় ধরনের কর্মীর চাহিদা তুলনামূলকভাবে অনেকটাই বৃদ্ধি পাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।

সংসদে আরও জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ঐতিহ্যগতভাবে ধরে রাখা শ্রমবাজারগুলোর পাশাপাশি নতুন দেশ এবং নতুন খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাকে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে যুদ্ধ বা সংঘাতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোতে ভবিষ্যতে পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হলে নির্মাণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিবহন, বিদ্যুৎ ও আবাসনসহ বিভিন্ন খাতে বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের প্রয়োজন হবে। সম্ভাব্য এই শ্রমবাজারগুলোতে বাংলাদেশি কর্মীদের সঠিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকার এখন থেকেই আগাম প্রস্তুতি ও বাজার অনুসন্ধানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সংসদে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার এক প্রশ্নের জবাবে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফর করেছেন। এর ধারাবাহিকতায় গত জুলাইয়ের শেষ দিকে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা এবং মন্ত্রীও মালয়েশিয়া সফর করেন। এসব উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক উদ্যোগের ফলে দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর বন্ধ দুয়ার দ্রুত সুগম হবে বলে তিনি জোরালো আশা প্রকাশ করেন। দীর্ঘদিন ধরেই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক কর্মসংস্থানের গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ফলে দেশটিতে নতুন করে কর্মী পাঠানোর সুযোগ তৈরি হলে তা দেশের অর্থনীতিতে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সংসদে দেওয়া অন্য এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, গত অর্থবছরে চাকরির উদ্দেশ্যে মোট ৯ লাখ ৮৫ হাজার ১২০ জন বাংলাদেশি কর্মী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক কর্মী গেছেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে। একক দেশ হিসেবে শুধু সৌদি পেট্রোলিয়াম ও উন্নয়ন খাতেই গত অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে কর্মসংস্থানের জন্য গেছেন ৬ লাখ ৪ হাজার ৬৬২ জন।

এ ছাড়া একই অর্থবছরে কাতারে গেছেন ৮৯ হাজার ২৩ জন, সিঙ্গাপুরে গেছেন ৭৫ হাজার ৪১ জন, মালদ্বীপে গেছেন ৪২ হাজার ১৩০ জন এবং কুয়েতে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে গেছেন ৩৯ হাজার ৮৭৫ জন বাংলাদেশি কর্মী।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন news@probashtime.com মেইলে।

ProbashircityWebPopupUpdate