সর্বশেষ

মক্কার ইমামের ভুল ধরেছিলেন যে বাংলাদেশি আলেম

Web Image 20260825Web Popup (3)

সিলেটের আল্লামা মুশাহিদ আহমদ বায়ামপুরী (রহ.) ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম খ্যাতিমান আলেম ও হাদিসবিশারদ, যাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য ও প্রখর স্মৃতিশক্তির খ্যাতি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আরব বিশ্বেও ছড়িয়ে পড়েছিল। ১৯০৭ সালে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বায়ামপুর গ্রামে জন্ম নেওয়া এই সাধক শৈশবেই পিতৃহীন হন এবং মায়ের কাছে তাঁর প্রাথমিক শিক্ষাজীবন শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে রামপুর ও মিরাঠ আলিয়া মাদ্রাসায় দীর্ঘ অধ্যয়নের পর ১৯৩৬ সালে বিশ্বখ্যাত দারুল উলুম দেওবন্দে ভর্তি হয়ে তিনি হাদিসশাস্ত্রে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জনসহ মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেন। তাঁর জীবনের অন্যতম আলোচিত অধ্যায়টি রচিত হয় ১৯৪৭ সালে হজ পালনকালে; সেবার মক্কার ইমামের খুতবায় একটি ভুল চিহ্নিত করে তা সংশোধনের মাধ্যমে তিনি আরব পণ্ডিতদেরও বিস্ময়াভিভূত করেছিলেন। এমনকি তাঁর গভীর জ্ঞানে মুগ্ধ হয়ে সৌদি আরবের তৎকালীন বাদশাহ তাঁর কাছে রাষ্ট্রীয় সংবিধান পেশ করে কোনো সংশোধনের প্রয়োজন আছে কি না, তা যাচাইয়ের অনুরোধ করেছিলেন বলে বিভিন্ন জীবনীগ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে।

দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে পড়াশোনা শেষে ভারতে শিক্ষকতা শুরু করলেও সিলেটবাসীর একান্ত অনুরোধে দেশে ফিরে তিনি সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা ও গাছবাড়ী জামিউল উলুম কামিল মাদ্রাসায় শায়খুল হাদিস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৪ সালে নিজ জন্মস্থান কানাইঘাটের ‘দারুল উলুম কানাইঘাট’ মাদ্রাসায় দাওরায়ে হাদিস চালু করেন এবং আমৃত্যু সেখানে পরিচালক ও শায়খুল হাদিসের দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন। তাঁর সুখ্যাতির কারণে দেশের নানা প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা কানাইঘাটে ছুটে আসতেন, যার ফলে প্রতিষ্ঠানটি সিলেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দ্বীনি শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হয়। শিক্ষাদান ও গ্রন্থ রচনার পাশাপাশি মুসলিম সমাজের নানা কুসংস্কার, অনাচার ও সামাজিক অসংগতির বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন আপসহীন। পবিত্র রমজান মাসে সিলেটের বন্দরবাজার জামে মসজিদে সাহ্‌রি পর্যন্ত তাঁর বিজ্ঞান ও সমাজজীবন সমৃদ্ধ তাফসির শুনতে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হতো, যা তাঁর বিপুল জনপ্রিয়তার একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।

সিলেটের আল্লামা মুশাহিদ বায়ামপুরী (রহ.) 20260825

আধ্যাত্মিক ও শিক্ষাদানের পাশাপাশি সমাজ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে আল্লামা বায়ামপুরী (রহ.) তাঁর শিক্ষক মাওলানা হোসাইন আহমদ মাদানীর (রহ.) আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৬২ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে তিনি পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং সংসদে কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক আইন প্রণয়ন ও ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জোরালো দাবি তোলেন। রাজনীতির বাইরে ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থা ও ধর্মীয় নানা বিষয়ে তিনি ‘ফাতহুল কারীম ফি সিয়াসাতিন্নাবিয়ীল আমীন’, ‘সত্যের আলো’, ও ‘ইসলামে ভোট ও ভোটের অধিকার’-এর মতো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ রচনা করে গেছেন। অবিস্মরণীয় এই কীর্তিমান পুরুষ ১৩৯০ হিজরির ১০ জিলহজ অর্থাৎ ১৯৭১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি পবিত্র ঈদুল আজহার রাতে ইন্তেকাল করেন এবং নিজ হাতে গড়া দারুল উলুম কানাইঘাট মাদ্রাসার সামনে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

সূত্র: শিক্ষক বাতায়ন

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন news@probashtime.com মেইলে।

Web Popup (3)
Web Squre popup