নারীদের এগিয়ে যাওয়ার পথে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম বিভাগের শিক্ষক মো. আবদুর রহমান রাহাদ। নির্ধারিত ‘ক্লাস টেস্ট’ চলাকালীন এক ছাত্রীর সন্তানকে নিজের কোলে পরম যত্নে সামলে রেখে তাঁকে নিশ্চিন্তে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হৃদয়স্পর্শী এই ঘটনার বিবরণ ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপক প্রশংসার জন্ম দেয় এবং মাতৃত্ব যে শিক্ষার পথে বাধা হতে পারে না, সেই বার্তাই নতুন করে সবার সামনে উঠে আসে।
ঘটনার দিন সকালে নির্ধারিত কুইজ পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগে এক শিক্ষার্থী তাঁর কোলের সন্তানকে নিয়ে ওই শিক্ষকের কাছে আসেন। ওই শিক্ষার্থী জানান, পরীক্ষার সময়টুকুতে তাঁর বাচ্চাকে দেখভাল করার মতো কেউ নেই এবং তাঁর স্বামীও অফিস থেকে ছুটি পাননি। তাই তিনি সহপাঠীদের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর তাঁদের কাছে সন্তানকে রেখে পরে পরীক্ষায় বসতে চান। শিক্ষার্থীর এমন অসহায়ত্ব দেখে শিক্ষক গভীরভাবে উপলব্ধি করেন, আমাদের সমাজে একজন নারীকে সফল হতে গেলে পারিপার্শ্বিক কত শত বাধা অতিক্রম করতে হয়। তিনি চাইলে তাঁকে পরে পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি দিতে পারতেন। কিন্তু শিক্ষকের মনে হয়, এতে ওই ছাত্রীকে একটি ভুল বার্তা দেওয়া হবে এবং কেবল সন্তানের কারণে তিনি তাঁর সহপাঠীদের চেয়ে পিছিয়ে পড়বেন বা আলাদা হয়ে যাবেন।
এমন ভাবনা থেকেই শিক্ষক ওই শিক্ষার্থীকে জানান, বাচ্চাটি যদি তাঁর কাছে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, তবে পরীক্ষা চলাকালীন তিনি নিজেই তাকে সামলাবেন। শিক্ষক হয়ে পরীক্ষার হলে বাচ্চা কোলে নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর বিষয়ে শিক্ষার্থী কিছুটা ইতস্তত বোধ করলেও শিক্ষক তাঁকে আশ্বস্ত করে বলেন যে, মানুষ হিসেবে এটি তাঁর দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। এরপর পুরো পরীক্ষা চলাকালীন শিশুটি শিক্ষকের কোলেই ছিল এবং ওই শিক্ষার্থী তাঁর সহপাঠীদের সঙ্গে একই সময়ে বসে নির্বিঘ্নে পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। পরীক্ষা শেষে কৃতজ্ঞতাপূর্ণ হৃদয়ে ওই শিক্ষার্থী ধন্যবাদ জানালে শিক্ষক তাঁকে এক অনুপ্রেরণাদায়ী বার্তা দিয়ে বলেন, মাতৃত্ব কোনো বাধা নয়, বরং এটি জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং সন্তানদের সঙ্গে নিয়েই নিজের মেধার প্রমাণ দিয়ে নারীদের সফলভাবে এগিয়ে যেতে হবে।










