সর্বশেষ

মৃত্যুর দুই বছর পর বিয়ে রেজিস্ট্রেশন!

5 20260822Web Popup (3)

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় এক মৃত ব্যক্তির বিয়ের নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন নতুন করে সম্পন্ন করার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক নিকাহ রেজিস্ট্রারের (কাজী) বিরুদ্ধে। দুই বছর আগে মারা যাওয়া ওই ব্যক্তির নাম মতিয়ার রহমান। মৃত্যুর পর নতুন করে বিয়ের এই ভুয়া নিবন্ধনের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত কাজী আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে এই জালিয়াতি করার অভিযোগ এনেছেন খোদ মৃত ব্যক্তির বাবা। একই বিয়ের দুটি ভিন্ন তারিখের কাবিননামা সামনে আসায় পুরো নিবন্ধন প্রক্রিয়াটিই এখন প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুন্দরগঞ্জের তারাপুর ইউনিয়নের লাটশালা গ্রামের বাসিন্দা মতিয়ার রহমানের সঙ্গে একই এলাকার শারমিন আক্তারের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের মৃত্যুসনদ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৭ এপ্রিল মতিয়ার রহমান গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। স্বামীর মৃত্যুর পর শারমিন আক্তার অন্যত্র বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। সম্প্রতি মতিয়ারের বাবা মো. হোসেন আলী তার ছেলের আগের বিয়ের কাবিননামার একটি নকল কপি তুলতে গেলে জালিয়াতির এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগ রয়েছে, কাজী আব্দুল হাই অর্থের বিনিময়ে পুরোনো বিয়ের কপি না দিয়ে ২০২৬ সালের ৮ আগস্টের তারিখে মৃত মতিয়ার ও শারমিনের বিয়ে নতুন করে নিবন্ধন করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে তড়িঘড়ি করে তিনি আবার ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারির তারিখ দেখিয়ে আরেকটি কাবিননামা সরবরাহ করেন।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন নিকাহ রেজিস্ট্রার আব্দুল হাই। তিনি জানান, কারও কাছ থেকে কোনো আর্থিক সুবিধা নিয়ে তিনি এই কাজ করেননি; বরং সব কাজ নিয়মতান্ত্রিকভাবেই সম্পন্ন করা হয়েছে। তার মূল রেজিস্টারে থাকা তথ্য সম্পূর্ণ বৈধ বলে দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে মূল রেজিস্টার যাচাইয়ের মাধ্যমে অভিযুক্ত কাজীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মৃত মতিয়ারের বাবা।

প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, মতিয়ার ২০২৪ সালেই মারা গেছেন এবং তার পরিবারকে পরিষদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুসনদও দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি জানান, আইনিভাবে এ ধরনের কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। পুরো ঘটনাটি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অভিযোগের সত্যতা মিললে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন news@probashtime.com মেইলে।

Web Popup (3)
Web Squre popup