চলতি মাসের শেষ দিকে প্রবাসীদের সুবিধার্থে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এটিএম কার্ডের মতো ব্যবহারযোগ্য এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা ব্যাংকিং লেনদেনের পাশাপাশি দেশে ফেরার পর সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসায় অগ্রাধিকারসহ নানা সেবা সহজেই গ্রহণ করতে পারবেন। গতকাল বুধবার বিকেলে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক এসব কথা বলেন।

মুন্সিগঞ্জ জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদ আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা, প্রাপ্তি ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক ওই সভায় সমসাময়িক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। বিদ্যুৎ খাত নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছরের লুটপাট ও অর্থ পাচারের কারণে দেশে বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার চরম সংকট চলছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কয়লা ও গ্যাস আমদানিতে প্রচুর ডলারের প্রয়োজন হয় বিধায় সরকারকে এখন অত্যন্ত হিসাব করে বিদেশি মুদ্রা খরচ করতে হচ্ছে। আর এই সাময়িক সংকটকে পুঁজি করেই বিরোধী দল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
আরও
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বেড়েছে উল্লেখ করে সংকট উত্তরণে প্রবাসীদের বৈধ পথে দেশে অর্থ পাঠানোর আহ্বান জানান নুরুল হক। তিনি বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের মাধ্যমে রিজার্ভ বাড়লে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসহ চলমান নানা সংকটের দ্রুত নিরসন করা সম্ভব হবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কৃষি ও ফ্যামিলি কার্ডসহ সরকারের নেওয়া বিভিন্ন ইতিবাচক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, মাত্র ছয় মাসে সব পুঞ্জীভূত সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, তাই সংস্কারের জন্য সরকারকে কিছুটা সময় দিতে হবে।
জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মুহাম্মদ রাজুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সৌরভ ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম ইরাদত মানু প্রমুখ। পরে অনুষ্ঠানে জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের পরিবারের সদস্যদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।











