সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে বসতভিটা ও জমি লিখে না দেওয়ার জেরে ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে মোহাম্মদ আলী (৭৫) নামের এক বৃদ্ধকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আজ রোববার সকালে নিহত ব্যক্তির পুত্রবধূসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—নিহত বৃদ্ধের পুত্রবধূ হোসনা বেগম (৩৮), ভাড়াটে খুনি ও হোসনা বেগমের দূরসম্পর্কের ভাগনে রুহুল আমিন (২২) এবং নজরুল ইসলাম (২০)। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার হোসনা বেগম এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন। তাঁর স্বামী সৌদিপ্রবাসী ইসমাইল মিয়া এই খুনের অন্যতম পরিকল্পনাকারী এবং তিনি বিদেশ থেকেই হত্যার জন্য টাকা পাঠিয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্পত্তি লিখে না দেওয়ায় মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে তাঁর একমাত্র ছেলে ইসমাইল মিয়া ও পুত্রবধূ হোসনা বেগমের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। একপর্যায়ে ইসমাইল বিদেশ থেকে হোসনার দূরসম্পর্কের ভাগনে রুহুল আমিনের কাছে টাকা পাঠান। পরে রুহুল আমিন, নজরুল ইসলাম ও জিয়াউর রহমান নামের আরেক ব্যক্তির সঙ্গে ৫০ হাজার টাকার চুক্তি করে মোহাম্মদ আলীকে হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়।
আরও
গত শুক্রবার গভীর রাতে মোহাম্মদ আলী নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী পুত্রবধূ হোসনা ঘরের পেছনের দরজা খুলে দেন এবং টর্চলাইটের আলো জ্বেলে খুনিদের ঘরে ঢুকতে সহায়তা করেন। এরপর গলায় গামছা পেঁচিয়ে ওই বৃদ্ধকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরদিন শনিবার তড়িঘড়ি করে লাশ দাফনের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় নিহত ব্যক্তির মুখে রক্তের দাগ ও গলায় কালচে চিহ্ন দেখে স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির নাতনি মোছা. আছমা বেগম বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আজ রোববার বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়েছে। হোসনা বেগম পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন যে তিনি ও তাঁর স্বামী পরিকল্পিতভাবে ৫০ হাজার টাকায় চুক্তি করে ভাড়াটে খুনিদের দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত টর্চের আলো জ্বেলে তিনি নিজেই খুনিদের সহায়তা করেছেন বলেও পুলিশকে জানিয়েছেন।





![]hgjn](https://probashtime.net/wp-content/uploads/2026/08/hgjn.webp)



