ইতালির রাজধানী রোমে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ আজ দেশে পৌঁছেছে। শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে মরদেহগুলো ঢাকায় পৌঁছায়। আজ রাতেই নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নে গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে তাঁদের দাফন সম্পন্ন হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বাবুল, তাঁর স্ত্রী এবং পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশা। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে বেঁচে যাওয়া পরিবারের একমাত্র ছেলে অয়ন স্বজনদের মরদেহ নিয়ে আজ দেশে ফিরেছেন। তিনি বাবা, মা ও ছোট বোনের জানাজা ও দাফনে অংশ নেবেন। এর আগে গত সোমবার ইতালির স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় রোমের ক্যাসালোত্তি এলাকায় নিহত ব্যক্তিদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর গতকাল বৃহস্পতিবার মরদেহগুলো বাংলাদেশের উদ্দেশে পাঠানো হয়। সবকিছু ঠিক থাকলে আজ বিকেলের মধ্যেই মরদেহগুলো নোয়াখালীতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

আরও
গত ২৬ জুন রাতে ইতালির রোম শহরের ভিয়া মন্তিলিওর একটি অ্যাপার্টমেন্টে ছুরিকাঘাতে নির্মমভাবে খুন হন কামাল উদ্দিন, তাঁর স্ত্রী ও শিশু কন্যা। প্রতিবেশীদের কাছে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করে এবং গুরুতর আহত অবস্থায় ছেলে অয়নকে উদ্ধার করে স্থানীয় জেমেলি পলিক্লিনিক হাসপাতালে ভর্তি করে। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে মো. শাহাদাত হোসেন নামের এক বাংলাদেশির ছবি প্রকাশ করে ইতালির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযুক্ত শাহাদাত নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব এবং চরকাঁকড়া ইউনিয়নের আবদুল আহাদের ছেলে।
হত্যাকাণ্ডের পর এক মাস ১৯ দিন পেরিয়ে গেলেও প্রধান অভিযুক্ত শাহাদাত হোসেনকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে ইতালির পুলিশ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদসহ জোর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে একসঙ্গে তিন স্বজনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে নিহতের পরিবার। নিহত কামাল উদ্দিনের বাবা সিরাজুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, ছুটিতে দেশে এসে তাঁর ছেলে কবরস্থানে মাটি ফেলেছিল, আর সেখানেই আজ তাঁদের দাফন করা হবে। তিনি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।











