সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত প্রবাসী কর্মী হাসিবুল হাসান শুভর মৃত্যুতে যখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে, ঠিক তখনই তার স্ত্রীর মর্যাদা চাওয়া এক নারীর করুণ আকুতি সবার বিবেককে নাড়া দিয়েছে। স্বামীর মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই তাকে নামতে হয়েছে স্ত্রীর মর্যাদা আদায়ের এক কঠিন লড়াইয়ে। শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁদের বিয়ের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করে তাঁকে স্বামীর লাশ দেখতেও নিষেধ করেছেন বলে অভিযোগ। চরম এই অসহায়ত্বের মাঝে স্ত্রীর স্বীকৃতি ও শেষবারের মতো স্বামীর মুখখানা দেখার আর্তি জানিয়ে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন তিনি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ওই নারী জানান, আজ থেকে প্রায় দেড় বছর আগে মোবাইল ফোনে শুভর সঙ্গে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়। সিদ্ধান্ত ছিল, বিদেশ থেকে ফিরলে আনুষ্ঠানিকভাবে কাবিনসহ বিয়ের অন্যান্য কাজ সারা হবে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের আগেই শুভর দেশে ফেরার কথা ছিল, আর তখনই দুজনের সামনাসামনি প্রথম দেখা হওয়ার প্রহর গুনছিলেন তিনি। অগ্নিকাণ্ডের দিন সকালেও তাঁদের মধ্যে কথা হয়। কিন্তু মুহূর্তের এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা তাঁদের সাজানো স্বপ্নকে চিরতরে কেড়ে নিয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, স্বামীর মৃত্যুর পর শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিয়ের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করছেন। তাকে শুভর গ্রামের বাড়িতে যেতে বারণ করার পাশাপাশি মোবাইল ফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হচ্ছে। স্বামীর পরিবার দাবি করছে, শুভ অবিবাহিত ছিলেন। বিয়ের প্রমাণস্বরূপ এফিডেভিটের কাগজ থাকলেও আনুষ্ঠানিক কাবিননামা না থাকায় তিনি আইনিভাবেও জটিলতার মুখে পড়েছেন। স্বামী হারানোর তীব্র যন্ত্রণার সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির এই মানসিক নিপীড়ন তাঁকে চরম অনিশ্চয়তায় ফেলে দিয়েছে।
আরও
দেশবাসী ও সরকারের কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করে ওই নারী জানিয়েছেন, স্বামীর কোনো সম্পত্তির প্রতি তাঁর বিন্দুমাত্র লোভ নেই। তার জীবনের একমাত্র চাওয়া হলো হাসিবুল হাসান শুভর বৈধ স্ত্রী হিসেবে আইনি স্বীকৃতি পাওয়া। আর সেই পরিচয়েই শেষবারের মতো স্বামীর নিথর দেহখানা একবার চোখের দেখা দেখতে চান তিনি।











