ময়মনসিংহ সদর উপজেলার দারিয়াকান্দা গ্রামের মজিদ মণ্ডল বাড়ির জামে মসজিদে দীর্ঘ ৫৬ বছর ধরে ইমামতির দায়িত্ব পালন করছেন হাফেজ আব্দুল কদ্দুস। নিষ্ঠা ও একাগ্রতার সঙ্গে দীর্ঘ এই সময় ধরে ধর্মীও সেবা দেওয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে পাঠিয়েছেন এলাকাবাসী। বুধবার মসজিদ প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন পরিবেশে তাঁকে বিদায় জানানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সাল থেকে ওই মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন হাফেজ আব্দুল কদ্দুস। দীর্ঘ এই সময়ে তিনি শুধু পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ইমামতিই করেননি, বরং গ্রামের শিশু-কিশোরদের কোরআন শিক্ষা ও ধর্মীয় জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক নানা বিষয়েও মানুষকে নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে আসছেন। শারীরিক অসুস্থতা কিংবা নানা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি সাধ্যমতো মসজিদে উপস্থিত থেকে নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন। সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দীর্ঘ এই পথচলায় তিনি পরিণত হয়েছেন পুরো গ্রামের মানুষের আস্থার প্রতীকে।
তাঁর এই নিরলস সেবার প্রতি সম্মান জানিয়ে গ্রামের বাসিন্দা, আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা সম্মিলিতভাবে তাঁর ওমরাহ পালনের ব্যবস্থা করেন। এ প্রসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা এ কে এম ফজলুল হক বলেন, তরুণ বয়সে ইমামতির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন হাফেজ আব্দুল কদ্দুস। গ্রামের মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ইমামকে ওমরাহে পাঠানোর অন্যতম উদ্যোক্তা ফরিদ আহমেদ ও আশরাফুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিনের সেবার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থেকেই এলাকাবাসী মিলে এই উদ্যোগ নিয়েছেন। এটি তাঁদের পক্ষ থেকে প্রিয় ইমামের প্রতি সম্মানের একটি ছোট্ট উপহার মাত্র।
আরও
বিদায়বেলায় এলাকাবাসীর এমন ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন হাফেজ আব্দুল কদ্দুস। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি ১৯৭১ সাল থেকে এই মসজিদে ইমামতি করছি। কখনো ভাবিনি আপনারা আমাকে এভাবে সম্মানিত করবেন। আল্লাহ আপনাদের সবাইকে উত্তম প্রতিদান দিন। পবিত্র ভূমিতে গিয়ে দেশ, জাতি ও আপনাদের সবার জন্য দোয়া করব।’ একজন পেশাজীবীর দীর্ঘ সেবার প্রতি এলাকাবাসীর এমন অনন্য স্বীকৃতির উদ্যোগটি সব মহলেই ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।











