পিরোজপুর সদর উপজেলায় নিজ ছেলে-মেয়েকে শরবতের সঙ্গে বিষ খাইয়ে হত্যার চেষ্টা করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক বাবার বিরুদ্ধে। সোমবার (১ জুন) রাত আটটার দিকে উপজেলার কুমারখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী দুই শিশু ইয়াসিন (১৪) ও তার ছোট বোন বর্তমানে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অভিযুক্ত বাবা সিরাজুল শিকদার জেলার জিয়ানগর উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নের লাহুড়ী গাজীপুর এলাকার বাসিন্দা। কুমারখালী এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে অবস্থানকালে তিনি এই ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগী ইয়াসিন জানায়, তার বাবা প্রথমে তাকে দোকান থেকে চিনি আনতে বলেন। চিনি এনে দেওয়ার পর তিনি নিজেই শরবত বানিয়ে ইয়াসিন ও তার বোনকে খেতে দেন। সেই শরবত পানের কিছুক্ষণ পরই তারা দুজন অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার ছোট বোন জানায়, শরবত খাওয়ার পর তার মাথা ঘুরে যায় এবং সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তার ধারণা, শরবতের ভেতরে ক্ষতিকর কিছু মেশানো ছিল।
প্রতিবেশী মো. কামরুল ইসলাম জানান, হঠাৎ শিশুদের চিৎকারের শব্দ শুনে তিনি দৌড়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে বাড়ির উঠানে ছেলে-মেয়ে দুটিকে যন্ত্রণায় কাতরাতে দেখেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শিশুদের নানা আব্দুল করিম অভিযোগ করে বলেন, তাঁর নাতি-নাতনিকে তাদের আপন বাবা বিষ মেশানো শরবত খাইয়ে হত্যার চেষ্টা করেছেন। তবে ঠিক কী কারণে বা কোন ক্ষোভ থেকে তিনি এমন ভয়াবহ কাজ করেছেন, তা পরিবারের কারও জানা নেই।
আরও
এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সিরাজুল শিকদার পলাতক রয়েছেন। ঘটনার সত্যতা ও কারণ জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল ধরেননি। এ বিষয়ে পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।










