আধুনিক যুগে বিয়ের জন্য পাত্র-পাত্রী খুঁজতে সাধারণত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা বিভিন্ন ম্যাট্রিমোনিয়াল অ্যাপ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে এসব আধুনিক প্রযুক্তিকে পাশ কাটিয়ে এবার লক্ষ্মীপুরে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও অভিনব কায়দায় মাইকিং করে জীবনসঙ্গীর সন্ধান করার ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শনিবার (৯ মে) জেলার রায়পুর পৌর শহর ও এর আশপাশের এলাকায় একটি অটোরিকশায় রঙিন পোস্টার লাগিয়ে মাইকে উচ্চস্বরে পাত্র-পাত্রী খোঁজার এমন ব্যতিক্রমী প্রচারণা চালাতে দেখা যায়। বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অটোরিকশায় মাইক বেঁধে প্রচারণায় বলা হচ্ছে, বিভিন্ন পেশার প্রতিষ্ঠিত পাত্র-পাত্রীর সন্ধান দেওয়া হবে। মাইকের ঘোষণায় চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যাংকার এবং প্রবাসী পাত্র-পাত্রীর পাশাপাশি ডিভোর্সি নারী-পুরুষের জন্যও যোগ্য জীবনসঙ্গী খুঁজে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছিল। তবে সবচেয়ে বেশি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে প্রচারণার সেই অংশটি, যেখানে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে ‘বিসিএস ক্যাডার’ পাত্রের কথা উল্লেখ করা হয়। সামাজিক ও পারিবারিকভাবে বিসিএস ক্যাডার পাত্রের ব্যাপক চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখেই সম্ভবত এই আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিয়ের জন্য পাত্র-পাত্রীর সন্ধানে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এখন অনেকটাই সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে; কিন্তু বিয়ের মতো একটি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়ে রাস্তায় মাইকিং করে এমন প্রকাশ্য প্রচারণা এই এলাকায় আগে কখনোই দেখা যায়নি। প্রচার চালানো ওই প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্মীপুর জেলা পরিচালক মো. শরিফ হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, মূলত পাত্র-পাত্রীর সন্ধানে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে খুব দ্রুত ও সহজে পৌঁছানোর লক্ষ্যেই তাঁরা এই ভিন্নধর্মী প্রচারণার পথ বেছে নিয়েছেন। তাঁদের দাবি, অ্যাপ বা অনলাইনের চেয়ে সাধারণ মানুষের কাছে এই ধরনের সরাসরি প্রচারণাই বেশি কার্যকর হতে পারে।
আরও
প্রচারণার উদ্দেশ্য শেষ পর্যন্ত সফল হোক বা না হোক, লক্ষ্মীপুরের এই অভিনব ঘটনাটি প্রমাণ করে দিয়েছে যে বাংলাদেশের বিয়ের বাজারে পেশাদারিত্বের মোড়কে এখন এক নতুন ধরনের প্রতিযোগিতা চলছে। পাত্র-পাত্রী খুঁজে দেওয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই ব্যবসায়ের প্রসারে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এখন নিত্যনতুন ও সৃজনশীল উপায়ের দ্বারস্থ হচ্ছে। তবে এখন দেখার বিষয়, মাইকিং করে পাত্র-পাত্রী খোঁজার এই অভিনব পদ্ধতি সাধারণ মানুষের মাঝে কতটা গ্রহণযোগ্যতা পায় এবং শেষ পর্যন্ত এই প্রচারণার মাধ্যমে সত্যিই কতজন কাঙ্ক্ষিত জীবনসঙ্গী খুঁজে পেয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে সক্ষম হন।









