নাটোরের লালপুরে অবস্থিত গ্রিন ভ্যালি পার্কে বেড়াতে আসা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের দুই বিদেশি নাগরিককে কুরুচিপূর্ণ ও অশ্লীল ভাষায় হয়রানি করার অভিযোগে দুই টিকটকারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার হরিদাগাছি গ্রামের আমিনুল ইসলাম (৩০) এবং তানোর উপজেলার আড়া দিঘী গ্রামের রাসেল ইসলাম (২৫)। বিদেশি পর্যটকদের সঙ্গে চরম অশোভন আচরণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পার্ক কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত এই আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (৮ মে) গ্রিন ভ্যালি পার্কের একটি নির্দিষ্ট স্পট ভাড়া নিয়ে ‘টিকটক বন্ধু মিলন মেলা-২০২৬’ শীর্ষক এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন টিকটকাররা। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শতাধিক নারী ও পুরুষ কনটেন্ট ক্রিয়েটর ওই মেলায় অংশ নেন। এদিন বিকেল ৩টার দিকে পার্কে ঘুরতে আসা রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের ওই দুই বিদেশি নাগরিককে হঠাৎ ঘিরে ধরেন মেলায় অংশ নেওয়া ১০ থেকে ১২ জন যুবক। এ সময় তথাকথিত ওই কনটেন্ট ক্রিয়েটররা অত্যন্ত অশালীন মন্তব্য করে বিদেশি নাগরিকদের চরম বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেন, যার ভিডিও অভিযুক্ত আমিনুল ইসলাম নিজেই তাঁর ফেসবুক পেজে আপলোড করেন।
আরও
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই আপত্তিকর ভিডিওটিতে দেখা যায়, এক যুবক বিদেশি ওই পর্যটকদের উদ্দেশ্য করে ইংরেজিতে অত্যন্ত আপত্তিকর ভাষায় বলছেন, ‘তুমি পর্নো স্টার, তুমি মিয়া খলিফার স্বামী না?’ এমন অভাবনীয় ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যে হতভম্ব ও চরম বিব্রত হয়ে পড়েন ওই দুই বিদেশি। ঘটনার পরপরই পার্ক কর্তৃপক্ষের নজরে বিষয়টি এলে তারা আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে। লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, বিদেশি নাগরিকদের হয়রানি করার ঘটনায় গ্রিন ভ্যালি পার্ক কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে। সেই মামলার ভিত্তিতেই অভিযুক্ত আমিনুল ও রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে এমন ন্যক্কারজনক আচরণের ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা এই ঘটনার কঠোর সমালোচনা করে বলছেন, অতিথিপরায়ণ হিসেবে বাঙালিদের যে সুনাম রয়েছে, মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের এমন অসভ্য আচরণের কারণে আন্তর্জাতিক মহলে দেশের সেই উজ্জ্বল ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এর ফলে দেশের দর্শনীয় স্থানগুলোতে বিদেশি পর্যটকদের আগমন কমে যাওয়ার পাশাপাশি পুরো পর্যটন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার গভীর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দেশের সম্মান রক্ষার্থে এ ধরনের অশোভন আচরণকারী প্রত্যেককে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।







![]jkhgg](https://probashtime.net/wp-content/uploads/2026/05/jkhgg.webp)


