আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বাংলাদেশিদের জন্য সব ক্যাটাগরির ভিসা পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা করছে ভারত। শনিবার (২ মে) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভিসা দেওয়া শুরু করার পর, এবার ভারতও একই পথে হাঁটতে যাচ্ছে। মূলত দুই দেশের নাগরিকদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে এবং পূর্ণাঙ্গ ভিসা সেবা পুনরায় চালুর লক্ষ্যেই এই প্রথম ধাপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর বরাতে জানা যায়, গত মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ভারত সফরের সময় অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বিষয়ের পাশাপাশি ভিসার বিষয়টিও জোরালোভাবে উত্থাপন করেন। বাংলাদেশ যেহেতু তাদের ভিসা কেন্দ্রগুলো থেকে ভারতীয়দের সব ধরনের ভিসা দিচ্ছে, তাই ভারতকেও দ্রুত সময়ের মধ্যে একই ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। বর্তমানে ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের নয়াদিল্লি হাইকমিশন এবং কলকাতা, আগরতলা, মুম্বাই ও চেন্নাইয়ের কনস্যুলারগুলো সম্পূর্ণভাবে সচল রয়েছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশি হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ জানান, গত বছরের ডিসেম্বরে সাময়িক বন্ধ হওয়া কিছু ভিসা কেন্দ্রের কার্যক্রম ফেব্রুয়ারিতে পুনরায় শুরু হয়েছে এবং গত ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে এই পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার ভারতীয়কে ব্যবসা, পর্যটন, চিকিৎসা ও ফ্যামিলি ভিসাসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির ভিসা দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে কিছুটা শীতলতা দেখা দেয়। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দুই দেশই সম্পর্ক উন্নয়নে বিভিন্ন ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি ও লোকসভার স্পিকার ওম বিরলার ঢাকায় আগমন সেই প্রচেষ্টারই অংশ। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর ভারত সরকার নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ দেখিয়ে ভিসা সেবা সীমিত করলেও জরুরি পারিবারিক ও মেডিকেল ভিসা প্রদান কখনোই পুরোপুরি বন্ধ করেনি।
আরও
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ধাপে ধাপে ভারতের সম্পূর্ণ ভিসা সেবা চালুর কাজ বর্তমানে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে দীনেশ ত্রিবেদী আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং এরপরই দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভিসা জটিলতার এই অবসান ঘটলে আগামীতে ভারত ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জ্বালানি সহযোগিতাসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় ইস্যু নিয়ে পুরোদমে কাজ শুরু করবে। এর অংশ হিসেবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ারও প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।











