দীর্ঘ প্রবাস জীবনের ক্লান্তি শেষে পরিবারের সঙ্গে আসন্ন কোরবানির ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার স্বপ্ন নিয়ে দেশে ফিরেছিলেন মো. আনু বিশ্বাস (৪০)। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর বাস্তবে রূপ নিল না। মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আকস্মিক মৃত্যুতে নিভে গেল এই রেমিট্যান্স যোদ্ধার জীবনপ্রদীপ। শুক্রবার (১ মে) সকালে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার দারিয়াপুর ইউনিয়নের চৌগাছি পূর্বপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে তাঁর এই মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। প্রবাস থেকে ফেরা একজন মানুষের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে ঈদের আনন্দের বদলে এখন কেবলই শোকের মাতম চলছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত আনু বিশ্বাস ওই এলাকার কাদের বিশ্বাসের ছেলে। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে মালয়েশিয়ায় একটি প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি কিছুটা অসুস্থ থাকায় ছুটি নিয়ে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাতে মালয়েশিয়া থেকে তিনি দেশে ফেরেন। রাতেই নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর পর শুক্রবার সকালে তিনি হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁকে দ্রুত শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, স্ট্রোকজনিত কারণেই তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যু হয়েছে।
পরিবারের ভাগ্য ফেরাতে বিদেশে পাড়ি জমানো আনু বিশ্বাসের এমন মৃত্যুতে তাঁর স্ত্রী ও স্বজনেরা পুরোপুরি দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। কান্নায় ভেঙে পড়ে আনুর স্ত্রী তন্নী খাতুন বলেন, ‘পরিবারের ভাগ্য বদলাতে অনেক কষ্ট করে বিদেশে গিয়েছিলেন আমার স্বামী। দেশে ফিরে এমনভাবে চলে যাবেন, তা ভাবতেই পারছি না। এখন আমরা একেবারেই অসহায় হয়ে পড়লাম।’ অন্যদিকে, নিহতের ভাই আলমীর বিশ্বাস শোকাহত কণ্ঠে বলেন, ‘দীর্ঘদিন প্রবাসে হাড়ভাঙা খাটুনির পর দেশে ফিরেই ভাইকে হারালাম। আজ মে দিবস বা শ্রমিক দিবসেই একজন প্রবাসী শ্রমিকের এমন মৃত্যু আমাদের পরিবারের জন্য আরও বেশি বেদনাদায়ক।’
আরও
আনু বিশ্বাসের এই অকাল ও আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকাজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর এই করুণ প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়লে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষ তাঁকে একনজর দেখতে এবং শেষ বিদায় জানাতে বাড়িতে এসে ভিড় জমাচ্ছেন। যে মানুষটি পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে নিজের জীবনের সোনালি সময়গুলো ভিনদেশে কাটিয়েছেন, সেই মানুষটির এমন নিথর হয়ে ফেরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তাঁর স্বজন ও এলাকাবাসী।









