সর্বশেষ

পরকীয়ার ফাঁদে ফেলে প্রবাসীর স্ত্রীকে বিয়ে, গায়ে আগুন দিয়ে পালালেন স্বামী

Untitled 1Probashir city Popup 19 03

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙায় পরকীয়া প্রেমের ফাঁদে ফেলে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে বিয়ের পর যৌতুকের দাবিতে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে নতুন স্বামীর বিরুদ্ধে। শুধু শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনই নয়, গায়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার পর ওই গৃহবধূকে হাসপাতালে ফেলে পালিয়ে গেছেন অভিযুক্ত স্বামী। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী মাটিরাঙা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযুক্ত পলাতক স্বামীর নাম মো. নুর হোসেন (৩৫)। তিনি মাটিরাঙা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পলাশপুর গ্রামের কাঁচামাল ব্যবসায়ী মো. দুলাল মিয়ার ছেলে।

ভুক্তভোগী বিবি খাদিজা জানান, ২০০৮ সালে পারিবারিকভাবে এক সৌদি প্রবাসীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের দাম্পত্য জীবনে কোনো সন্তান ছিল না। স্বামী প্রবাসে থাকায় সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও কাঁচামাল কেনার সুবাদে স্থানীয় ব্যবসায়ী নুর হোসেনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে ওই নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি শরিয়ত মোতাবেক ৫ লাখ টাকা দেনমোহরে কাবিন রেজিস্ট্রির মাধ্যমে বিয়ে করেন নুর হোসেন।

ভুক্তভোগী খাদিজার অভিযোগ, বিয়ের আগে নানা অজুহাতে নুর হোসেন তাঁর কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই তিনি যৌতুকের জন্য বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। একটি মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার দাবিতে প্রায়ই তিনি স্ত্রীর গায়ে হাত তুলতেন। এর ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার সকালে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে নুর হোসেন তাঁকে কিলঘুষি ও লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেন এবং একপর্যায়ে তাঁর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন। তাঁর আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। ততক্ষণে আগুনে তাঁর পেট, পিঠ ও হাতের আঙুল পুড়ে যায়।

অবস্থা বেগতিক দেখে বাড়ির মালিকের চাপে নুর হোসেন তাঁকে চিকিৎসার জন্য দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে তাঁকে বসিয়ে রেখে তিনি কৌশলে পালিয়ে যান এবং আর ফিরে আসেননি। ভুক্তভোগী খাদিজা তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া এই অমানুষিক নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত নুর হোসেন পলাতক থাকায় তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর বাবা দুলাল মিয়া বলেন, ‘আমার ছেলের আগে থেকেই স্ত্রী ও এক সন্তান রয়েছে। তার বর্তমান স্ত্রী গর্ভবতী। সে নতুন বিয়ে করলে আমরা অবশ্যই জানতাম। নিজেকে স্ত্রী দাবি করা ওই নারী একদিন আমাদের বাড়িতে এসেছিলেন, তবে কেন এসেছিলেন তা আমি জানি না। তাঁকে আমরা বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলাম। ছেলে এখন কোথায় আছে, তা আমি বলতে পারছি না।’

এ বিষয়ে মাটিরাঙা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহেদ উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

Probashir city Popup 19 03
Probashir city Squre Popup 19 03