বিশ্বজুড়ে যখন অভিবাসনবিরোধী কঠোর মনোভাব বাড়ছে, ঠিক তখনই প্রায় ৫ লাখ অনিয়মিত অভিবাসীকে বৈধ করার এক ব্যতিক্রমী ও যুগান্তকারী ঘোষণা দিয়েছে স্পেনের পেদ্রো সানচেজ সরকার। প্রধানমন্ত্রী সানচেজ এই উদ্যোগকে ‘ন্যায়সংগত ও প্রয়োজনীয়’ বলে অভিহিত করেছেন। মূলত স্পেনে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় শ্রমবাজারে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলা করতেই অভিবাসীদের শ্রমশক্তিকে কাজে লাগানোর এই সাহসী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অভিবাসন আইন সংশোধনের লক্ষ্যে বিশেষ ডিক্রি জারির মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াটি দ্রুত নিশ্চিত করেছে সানচেজ সরকার। বর্তমানে আইনসভায় সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় এবং এর আগে একটি সাধারণ ক্ষমা বিল পাসের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার কারণে সরাসরি ডিক্রির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। নতুন এই কর্মসূচির আওতায় যোগ্য প্রার্থীরা প্রাথমিকভাবে এক বছরের জন্য স্পেনে আইনিভাবে বসবাস ও কাজের অনুমতি পাবেন।

আরও
স্পেনের অভিবাসনমন্ত্রী এলমা সাইজ জানিয়েছেন, আগামী বৃহস্পতিবার থেকে অনলাইনে এবং ২০ এপ্রিল থেকে সরাসরি আবেদন গ্রহণ শুরু হবে, যা চলবে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত।
বৈধ হওয়ার এই সুযোগ পেতে আবেদনকারীদের কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে:
স্পেনে প্রবেশ: আবেদনকারীকে অবশ্যই ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারির আগে স্পেনে প্রবেশ করতে হবে।
বসবাসের প্রমাণ: স্পেনে অন্তত পাঁচ মাস বসবাসের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেখাতে হবে।
পুলিশ ক্লিয়ারেন্স: আবেদনকারীর অতীতের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা চলবে না।
শর্ত অনুযায়ী, এই এক বছর মেয়াদি অস্থায়ী অনুমতি পাওয়ার এক বছর পর ওই অভিবাসীরা স্পেনে স্থায়ীভাবে বসবাসের আবেদনের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
তবে সরকারের এই যুগান্তকারী পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে স্পেনের বিরোধী দল ‘পিপলস পার্টি’। দলটির নেতা আলবার্তো নেজ ফেইহো একে ‘অমানবিক ও অনিরাপদ’ আখ্যা দিয়েছেন। যদিও মজার বিষয় হলো, এই একই দল ২০০০ সালের শুরুর দিকে ক্ষমতায় থাকাকালীন দুইবার ঠিক একই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছিল। এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের একাংশের মধ্যেও এত বিপুলসংখ্যক আবেদনের চাপ সামলানো নিয়ে সংশয় রয়েছে।
এদিকে, স্পেনের এই ঘোষণায় উল্লাসে মেতেছেন সেখানে অবস্থানরত হাজার হাজার প্রবাসী। বিশেষ করে বাংলাদেশি অভিবাসীরা এই সিদ্ধান্তকে ব্যাপকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরায় প্রকাশিত এক ভিডিও প্রতিবেদনে বার্সেলোনায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের এই সুযোগ প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী সানচেজকে ধন্যবাদ জানিয়ে আনন্দ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। স্প্যানিশ সরকারের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৫ লাখ নথিহীন অভিবাসী বৈধ হওয়ার এই সুযোগ পাবেন, ভবিষ্যতে যা আরও বাড়তে পারে।










