পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে দেড় বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন নীলফামারীর যুবক আতাউর রহমান (২৭)। গত বুধবার দেশটির তাবুক শহরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। ছেলের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে চলছে শোকের মাতম। তবে এই শোকের চেয়েও এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে আতাউরের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার খরচ। লাশ দেশে আনতে প্রায় চার লাখ টাকার প্রয়োজন হলেও তা জোগাড় করতে না পেরে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন তাঁর স্বজনেরা।
নিহত আতাউর রহমান নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের ছপিয়ার রহমানের ছেলে। পরিবারে বৃদ্ধ বাবা-মা ছাড়াও তাঁর এক বোন ও দুই ভাই রয়েছেন। আতাউরই ছিলেন সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। পারিবারিক সূত্র জানায়, সৌদি আরবে একটি প্রতিষ্ঠানে ডেলিভারি ম্যান হিসেবে কাজ করতেন তিনি। বুধবার দুপুরে তাবুক শহরে নিজের কর্মস্থলে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন আতাউর। ওই দিন সন্ধ্যায় সহকর্মীদের মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর খবর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়।
নিহতের বাবা ছপিয়ার রহমান জানান, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দা। কয়েক বছর আগে তিস্তার ভয়াবহ ভাঙনে তাঁদের বসতভিটা ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। বর্তমানে মাত্র ৩০ শতাংশ জমির ওপর একটি ছোট ঘর তুলে কোনোমতে বসবাস করছেন তাঁরা। সংসারের অভাব ঘোচাতে জমি বন্ধক রেখে এবং এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। গত দেড় বছরে ছেলে কিছু টাকা পাঠিয়ে ঋণের একটি অংশ শোধ করলেও এখনো প্রায় তিন লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে।
আরও
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ছপিয়ার রহমান বলেন, তাঁর ছেলেটিই ছিল সংসারের একমাত্র ভরসা। এখন তাঁরা একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। শেষবারের মতো শুধু ছেলের মুখটা দেখতে চান তিনি। কিন্তু লাশ দেশে আনতে নাকি চার লাখ টাকা লাগবে, এত টাকা কোথায় পাবেন—সেই ভেবেই কুলকিনারা পাচ্ছেন না এই অসহায় পিতা। ছেলের শোকে পাগলপ্রায় মা আতোয়ারা বেগমও বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। তিনি জানান, মৃত্যুর দিন সকালেও ছেলের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল। ছেলে জানিয়েছিল যে সে কাজে যাচ্ছে। আর আগের দিন বাবার সঙ্গে শেষ আলাপে আতাউর বলেছিলেন, ‘সবাই ভালো থাকবা, কয়েক দিনের মধ্যে কিছু টাকা পাঠামু, যতটা পার ঋণ শোধ কইরো।’
এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। মরদেহ দেশে আনার জন্য প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া স্থানীয়ভাবেও পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আপাতত সন্তানের নিথর দেহটি অন্তত শেষবারের মতো দেখতে সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের সহায়তার দিকে তাকিয়ে আছেন আতাউরের স্বজনেরা।









![]kljhgf](https://probashtime.net/wp-content/uploads/2026/04/kljhgf.webp)

