হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে যৌন হয়রানি, ইভটিজিং ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে। অভিযুক্তের নাম জাহাঙ্গীর আলম। তিনি চৌমুহনী ইউনিয়নের কমলানগর গ্রামের মৃত ইদ্রিস আলী মেম্বারের ছেলে এবং পেশায় বালু ব্যবসায়ী বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী মাহফুজা আক্তার নুসরাত (১৬) অভিযোগ করেন, চৌমুহনী বাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাসের সময় বাড়ির মালিক জাহাঙ্গীর আলম বিভিন্নভাবে তাকে উত্যক্ত করতেন। তার দাবি, হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে অশালীন বার্তা ও যৌন হয়রানিমূলক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং এসবের স্ক্রিনশট প্রমাণ হিসেবে তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

আরও
অভিযোগে বলা হয়, এক পর্যায়ে অভিযুক্ত তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তার সংসার ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও ভুক্তভোগী দাবি করেন। তিনি আরও জানান, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কোনো কার্যকর সমাধান পাননি।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৬ ডিসেম্বরের পর থেকে হয়রানির মাত্রা বেড়ে যায়। নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিনি বর্তমানে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত পক্ষ ভুয়া সাক্ষী তৈরি করে চরিত্রহননের চেষ্টা করছে এবং লোকজন দিয়ে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে। এমনকি থানায় অভিযোগ দিতে গেলেও বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী জুয়েল মিয়া বলেন, একজন নারীকে এভাবে যৌন হয়রানি করা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন; দ্রুত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ব্যস্ততার কথা বলে ফোন কেটে দেন এবং পরে আর ফোন রিসিভ করেননি বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।
মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুব মোরশেদ খান জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পেলে তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।











