বিদেশ থেকে ফেরা এক আউট পাসযাত্রীর লাগেজ কাটাছেঁড়া ও মালামাল চুরির অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। ভাইরাল ভিডিওতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের লাগেজ হল এলাকায় ক্ষুব্ধ যাত্রীদের কর্মীদের ওপর আহত হওয়ার ঘটনা দেখা গেলেও বেবিচক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে—মালামাল চুরি বা ব্যাগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মূল উৎস সৌদি আরবেই।
বেবিচকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ভিডিওটি সম্প্রতি ভাইরাল হলেও ঘটনাটি ঘটেছে ১৪ নভেম্বর। ওই দিন সৌদি আরব থেকে আউট পাস নিয়ে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের ET-618 ফ্লাইটে দেশে ফেরেন ৭৮ জন বাংলাদেশি। ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে ব্যাগেজ সংগ্রহ করতে গিয়ে তারা দেখেন—অনেক লাগেজ ছেঁড়া, আর ভেতরের বহু মালামাল নেই। এতে ক্ষোভে যাত্রীরা বিমানবন্দর কর্মীদের সঙ্গে উত্তেজনায় জড়ান।
বেবিচক জানায়, এ ধরনের লাগেজ কাটা এবং মালামাল হারানোর অভিযোগ সাম্প্রতিক সময়ে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিষয়টি সৌদি কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। এয়ারলাইন্সের ব্যাখ্যায় বলা হয়, আউট পাস যাত্রীদের মালামাল মাথাপিছু গড়ে ১৫ কেজি হিসেবে একত্রে বুক করা হয়; ফলে কোন ব্যাগে কার মালামাল ছিল তা সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করা কঠিন হয়। একইসঙ্গে সৌদি ইমিগ্রেশন পুলিশ বহু মালামাল জব্দ করে, যার তালিকাও এয়ারলাইন্সের হাতে থাকে না।
আরও
অন্যদিকে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরের ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং এলাকা পুরোপুরি সিসিটিভির আওতায় থাকায় সাধারণ যাত্রীদের ব্যাগ চুরির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে জানায় বেবিচক। তবে আউট পাস যাত্রীদের ব্যাগ সৌদিতে দীর্ঘ সময় বিভিন্ন সংস্থার হেফাজতে থাকে; প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, সেখানেই ব্যাগগুলো কাটাছেঁড়া বা মালামাল চুরির ঘটনা ঘটতে পারে।
বেবিচক জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে এয়ারলাইন্স ও সৌদি পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।










