গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার পিঞ্জুরী গ্রামে এক গৃহবধূ নিজের শরীরে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। নিহত ঝর্ণা বেগম (৩৫) ছিলেন আমেরিকা প্রবাসী হাফেজ সিদ্দিকুর রহমান তালুকদারের স্ত্রী এবং দুই সন্তানের জননী। সে কিছুদিন পরই সন্তানদের সঙ্গে স্বামীর কাছে আমেরিকায় যাওয়ার কথা ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বামীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথাকাটাকাটির পর শনিবার সকালে ঝর্ণা বেগম নিজের রুমের দরজা বন্ধ করে কেরোসিন তেল ব্যবহার করে আগুন ধরিয়ে দেন। পরিবারের সদস্যরা ধোঁয়া দেখে দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশী শাওন জানান, রুম থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে জানালার গ্লাস ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করলে দেখেন ঝর্ণার পুরো শরীর পুড়ে ফ্লোরে পড়ে আছে। ঘটনাস্থল থেকে কেরোসিন তেলের বোতল ও লাইটার উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আরও
নিহতের বড় ছেলে হাফেজ সাকিব তালুকদার জানান, বাবা দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকায় থাকায় মা ও বাবার মধ্যে ফোনে প্রায়ই কথাকাটাকাটি হতো। বাবা সম্প্রতি দেশে এসেছিলেন এবং তাদের সঙ্গে থাকা পাসপোর্ট নিয়ে ফিরে যান। ছেলে বলেন, মা কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন তা বুঝা যাচ্ছে না।
কোটালীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকার হাফিজুর রহমান জানান, ঝর্ণা বেগমের শরীরের প্রায় ৯০ ভাগ পুড়ে গেছে। আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ জানা যায়নি; প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে কোনো অভিমানের কারণে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ না থাকায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ময়নাতদন্ত ও পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।











