ঝিনাইদহ শহরে নতুন আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে ‘হানি ট্র্যাপ’। শহরের বিভিন্ন ভাড়া বাসা ও আবাসিক হোটেলকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এ অপরাধচক্রের গোপন আস্তানা। বাইরে থেকে স্বাভাবিক মনে হলেও ভেতরে চলছে ফাঁদ পেতে মানুষকে সর্বশান্ত করার খেলা। সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, বিদেশ ফেরত প্রবাসীসহ সমাজের প্রভাবশালী অনেকেই ইতোমধ্যে এ চক্রের টার্গেটে পড়েছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রথমে সম্পর্কের সূচনা হয়। ধীরে ধীরে কৌশলে তৈরি হয় প্রেম বা বন্ধুত্বের সম্পর্ক। পরে নির্জন স্থানে দেখা করার প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় ভাড়া বাসা বা হোটেলে, যেখানে আগে থেকেই প্রস্তুত থাকে চক্রের অন্য সদস্যরা। এরপর আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ভয়-ভীতি দেখিয়ে আদায় করা হয় মোটা অঙ্কের টাকা।
সূত্র জানায়, ঝিনাইদহ শহরের অন্তত পাঁচটি এলাকায় এ চক্র সক্রিয় রয়েছে। তাদের প্রধান টার্গেট ব্যবসায়ী, সরকারি চাকরিজীবী ও বিদেশফেরত প্রবাসীরা। অনেকে সামাজিক মান-সম্মানের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পান না। অভিযোগ আছে, কিছু রাজনৈতিক নেতা, অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা ও কথিত সাংবাদিকদের সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরেই চলছে এ অপকর্ম। এক প্রবাসী জানান, ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে শহরে ডেকে নিয়ে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিক দফায় ৪ লাখ টাকার বেশি হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি।
আরও
শহরের স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও বলছেন, তাদের পরিচিত অনেকেই একই ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন। এক হোটেল ম্যানেজার জানান, প্রতিদিন কিছু নারী ভিন্ন ভিন্ন লোক নিয়ে হোটেলে আসেন। সন্দেহ থাকলেও প্রমাণ ছাড়া ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন, এমনকি পুলিশকে জানালেও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায় না।
সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত হোসেন মনে করেন, ‘হানি ট্র্যাপ’ শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং সামাজিক নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি। তিনি প্রশাসনকে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইমরান জাকারিয়া বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। ইতোমধ্যে পুলিশের একাধিক টিম চক্রটির বিরুদ্ধে কাজ করছে। একই সঙ্গে তিনি বাসাবাড়ি ও হোটেল মালিকদের দায়িত্বশীল হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।












