মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় কথিত জীনের বাদশার প্রতারণায় পড়ে সর্বস্বান্ত হয়েছে এক প্রবাসী পরিবার। প্রলোভনের ফাঁদে পড়ে তারা প্রায় ২০ লাখ টাকার সমমূল্যের স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ হারিয়ে ফেলেছেন। হতাশ হয়ে অবশেষে তারা গজারিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গজারিয়া উপজেলার বালুরচর গ্রামের সৌদি প্রবাসী রবিউল আলমের মেয়ে ফারিয়ার কাছে গত ২৫ আগস্ট রাতে ফোন আসে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির কাছ থেকে। নিজেকে ‘জীনের বাদশা’ পরিচয় দিয়ে সে সোনা-রুপার কলস ও স্বর্ণের পুতুল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। প্রথমে বিষয়টি অবিশ্বাস করলেও পরে ফারিয়া ও তার মা পরীবানু সেই প্রলোভনে পড়ে প্রতারণার জালে জড়িয়ে পড়েন।
এরপর একাধিকবার মোবাইল কলের মাধ্যমে তাদের নির্দেশ দেওয়া হয় বিভিন্ন স্থানে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা রেখে আসতে। একপর্যায়ে মা-মেয়ে মিলে প্রায় ১৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও এক লক্ষ টাকা তুলে দেন প্রতারকের হাতে। বিনিময়ে তারা পায় একটি লাল কাপড়ে মোড়া কাঁসার পুতুল, যেটিকে তারা প্রথমে স্বর্ণ ভেবে ভুল করেছিলেন। পরে স্থানীয় স্বর্ণকারের দোকানে পরীক্ষা করে প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হন।
আরও
ভুক্তভোগী ফারিয়া জানান, প্রথমে ভয়ে বিষয়টি মাকে জানানোর পর মায়ের সাথেই প্রতারকের যোগাযোগ করান তিনি। এরপর ধাপে ধাপে তাদের সর্বস্ব হাতিয়ে নেওয়া হয়। ফারিয়ার মা পরীবানু বলেন, “সরল মনে বিশ্বাস করে সব স্বর্ণালংকার ও টাকা তুলে দিয়েছি। এখন আমরা নিঃস্ব।”
গজারিয়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে।











