রাজধানীর বিমানবন্দর সড়ক দিন দিন প্রবাসী ও যাত্রীদের জন্য আতঙ্কের নাম হয়ে উঠছে। বিশেষ করে রাতে এই সড়কে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগ উঠেছে, সংঘবদ্ধ চক্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে প্রবাসীদের টার্গেট করছে। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পরই তারা যাত্রীদের পিছু নেয় এবং সুযোগ বুঝে গাড়ি থামিয়ে সর্বস্ব লুটে নেয়।
চলতি বছরই বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। দুবাই ফেরত প্রবাসী পরিবার, প্রবাসীর বিদায় দিতে যাওয়া আত্মীয় কিংবা সাংবাদিক—কেউই বাদ যাননি এই চক্রের হাত থেকে। অনেক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, ছিনতাইকারীরা র্যাব বা ডিবি পুলিশের পোশাক পরে গাড়ি থামায়। পরে স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ ও মূল্যবান মালামাল কেড়ে নেয়। এমনকি প্রতিরোধ করলে অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি দেখিয়ে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, এসব ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করা হলেও অপরাধীরা বিভিন্ন সময়ে নতুনভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে। সম্প্রতি বনানী থানা পুলিশ দুই আসামিকে গ্রেফতারের কথা জানিয়েছে, যারা আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছে। তবে অনেক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলেও তা গুরুত্ব পায় না। এতে ভুক্তভোগীরা আরও অসহায় হয়ে পড়েন।
আরও
পুলিশ ও র্যাব জানিয়েছে, বিমানবন্দর এলাকা ও আশপাশে টহল বাড়ানো হয়েছে। রাতে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশিও করা হচ্ছে। তবে গুলশান বিভাগের কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, বিমানবন্দর থেকে বনানী পর্যন্ত সড়কে এসব অপরাধ বেশি ঘটে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রবাসীদের লক্ষ্য করে ছিনতাইয়ের ঘটনা বন্ধ করতে হলে কেবল টহল নয়, বরং সড়কে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে হবে। না হলে এ ধরনের অপরাধে সাধারণ মানুষ ও প্রবাসীরা আতঙ্কের মধ্যেই চলাচল করতে বাধ্য হবেন।








