রাশিয়ার আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে (এজিসিসি) গ্যাস লিকেজ থেকে ঘটা এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে জাকির হোসেন নামের এক বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত এবং আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও সাতজন বাংলাদেশি। আজ শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাশিয়ার মস্কোয় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম শাখার দেওয়া এক হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। এলএনজি সিনোপেক ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের অধীন ওই গ্যাস কমপ্লেক্সের ৪ ও ১০ নম্বর প্ল্যান্টে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে এবং আজ সকালে নিহত জাকিরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কিশোরগঞ্জের সন্তান জাকির নিহত হওয়ার পাশাপাশি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মো. আলাল হোসেন রাজু নিখোঁজ রয়েছেন বলে দূতাবাসের প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।

ভয়াবহ এই গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় সর্বমোট নিহতের সংখ্যা ১৫ জন ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজ বাংলাদেশি শ্রমিক আলাল হোসেন রাজুর বিষয়ে দূতাবাস জানিয়েছে, হাসপাতালে রাখা বেশ কিছু মরদেহ আগুনে মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় এখনো তাঁদের পরিচয় পুরোপুরি শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এই অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহগুলোর মধ্যেই নিখোঁজ এই বাংলাদেশির মরদেহ থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে, গুরুতর আহত সাত বাংলাদেশি শ্রমিককে উন্নত চিকিৎসার জন্য আমুর থেকে প্রায় ৩ হাজার ২০০ কিলোমিটার দূরে ভ্লাদিভোস্তকের একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় বর্তমানে তাঁরা নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন এবং তাঁদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে দূতাবাস।
আরও
নিহত জাকির হোসেনের মরদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। দূতাবাসের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিটি মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর পদক্ষেপ নিয়েছে এবং মিশন ইতিমধ্যেই প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ও অন্যান্য নথিপত্র প্রস্তুত করেছে। এর পাশাপাশি নিহত জাকিরের বকেয়া পাওনা ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ আদায় নিশ্চিত করতে এলএনজি সিনোপেক ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের সঙ্গে নিবিড় আলোচনা অব্যাহত রেখেছে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য বা অগ্রগতি পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলেও দূতাবাসের ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।









