ভারতের ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের মুম্বাই থেকে কলকাতাগামী একটি ফ্লাইটে সহযাত্রীকে থাপ্পড় মারার ঘটনায় তীব্র সমালোচনা ও বিতর্ক ছড়িয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। গত ৩১ জুলাই ইন্ডিগোর ৬ই ১৩৮ নম্বর ফ্লাইটে এ ঘটনা ঘটে। ভিডিওতে দেখা যায়, অসুস্থ এক মুসলিম যাত্রীকে কেবিন ক্রুরা সাহায্য করছেন—এই সময় এক যাত্রী হঠাৎ তাকে চড় মারেন।
ভুক্তভোগী ওই যাত্রীর নাম হুসেন আহমেদ মজুমদার (৩২), যিনি আসামের বাসিন্দা হলেও বর্তমানে মুম্বাইয়ে কর্মরত। তার বাবা আবদুল মান্নান মজুমদার ভিডিওতে ছেলেকে শনাক্ত করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে কেবিন ক্রুরা আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। সেই সময় এক যাত্রী অভিযুক্তকে বলেন, “কাউকে মারার অধিকার আপনার নেই।”
ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ফ্লাইটে এমন ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। অভিযুক্ত যাত্রীকে ‘অপ্রীতিকর আচরণকারী’ (unruly passenger) হিসেবে চিহ্নিত করে প্লেন অবতরণের পর নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে তাকে ‘নো-ফ্লাই লিস্টে’ অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
আরও
ঘটনার পর ভারতজুড়ে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় প্রতিক্রিয়ার ঝড়। কেউ একে ধর্মীয় বিদ্বেষ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, কেউবা প্রশ্ন তুলেছেন এয়ারলাইন্সের প্রতিক্রিয়ার দুর্বলতা নিয়ে। আইনজীবী সঞ্জয় হেগড়ে প্রশ্ন তুলেছেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়েছে কি না। অপরদিকে, অল্ট নিউজের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ জুবায়ের জানিয়েছেন, দুজন যাত্রীই মুসলিম এবং ঘটনাটি ধর্মীয় বিদ্বেষের নয়—বরং মানসিক উদ্বেগের মুহূর্তে ঘটেছে।
এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, বিমানবন্দর নিরাপত্তা সংস্থা সিআইএসএফ এবং সামাজিক গণমাধ্যমে সক্রিয় নাগরিক সমাজ দ্রুত বিচার ও যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। ইন্ডিগো জানিয়েছে, তাদের মূল অগ্রাধিকার যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তা এবং সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করা।











