যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এক মর্মান্তিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ডেভ ফিজি নামের ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক তরুণ। তিনি ডেল্টা এয়ারলাইনসের পাইলট ছিলেন। হানিমুনে যাওয়ার পথে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন তাঁরা। এতে হেলিকপ্টারের পাইলটও নিহত হয়েছেন। তবে ভাগ্যক্রমে ডেভের নববিবাহিত স্ত্রী জেসনি প্রাণে বেঁচে গেছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে আটলান্টার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত শুক্রবার জেসনির সঙ্গে ডেভের বিয়ে হয়। ডসনভিলের দ্য রিভেয়ার ভেন্যুতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রায় ৪০০ অতিথি উপস্থিত ছিলেন। প্রায় এক দশক আগে নিউ টেস্টামেন্ট চার্চে তাঁদের প্রথম পরিচয় হয়েছিল। বিয়ের বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা শেষে নবদম্পতি ডিকাল্ব-পিচট্রি বিমানবন্দরের উদ্দেশে একটি রবিনসন আর৬৬ হেলিকপ্টারে ওঠেন। নবদম্পতিকে বিশেষভাবে বিদায় জানাতেই এই হেলিকপ্টার যাত্রার আয়োজন করা হয়েছিল। জর্জিয়ার দ্বিতীয় ব্যস্ততম ওই বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর আটলান্টা শহরের একটি হোটেলে রাত কাটানোর পরিকল্পনা ছিল তাঁদের।
আরও
কিন্তু তাঁদের সেই যাত্রা আর গন্তব্যে পৌঁছায়নি। বিয়ের ভেন্যু থেকে খুব বেশি দূরে যাওয়ার আগেই ডসন কাউন্টির মাউন্ট ভার্নন ড্রাইভের কাছের একটি দুর্গম বনে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। ডেভের বাবা জর্জ ফিজি জানান, দুর্গম এলাকা হওয়ায় উদ্ধারকারীদের দুর্ঘটনাস্থল শনাক্ত করতে বেশ বেগ পেতে হয়। এই দীর্ঘ সময়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত নিয়ে জেসনি প্রায় ছয় ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে ছিলেন।
ছেলের মৃত্যুর মর্মান্তিক বর্ণনা দিয়ে জর্জ ফিজি বলেন, জ্ঞান ফেরার পর জেসনি দেখতে পায় ডেভ তার বুকে মাথা রেখে শুয়ে আছে। ডেভের শরীরে রক্ত ছিল এবং দেহ পুরোপুরি ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল। পেশায় নার্স হওয়ার কারণে জেসনি মুহূর্তেই বুঝতে পেরেছিল যে ডেভ আর বেঁচে নেই। বর্তমানে জেসনি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়লেও হাসপাতালে তাঁর শারীরিক অবস্থার ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে বলে জানান তিনি।
জর্জ ফিজি আরও জানান, উড্ডয়নের আগেই খারাপ আবহাওয়া নিয়ে ডেভ উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। নিজে একজন পাইলট হওয়ায় সে হেলিকপ্টারের পাইলটকে সতর্ক করে বলেছিল, এমন বিরূপ পরিস্থিতিতে সাধারণত তাঁরা আকাশপথে যাত্রা করেন না। কিন্তু হেলিকপ্টারের পাইলট বেশি উচ্চতায় উড়লে কোনো সমস্যা হবে না বলে তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি)। তবে এখন পর্যন্ত হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।










