যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির জ্যামাইকায় একটি মসজিদে দুই শিশুকে যৌন নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগে তাজুল ইসলাম (৫৫) নামে এক বাংলাদেশি ইমামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বুধবার (২৭ এপ্রিল) নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) কুইন্স চাইল্ড অ্যাবিউজ স্কোয়াড অভিযোগ পাওয়ার মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ওই ইমামের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ধর্মীয় পবিত্র স্থানে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার খবরে স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
কুইন্স ক্রিমিনাল কোর্টে দায়ের করা অভিযোগপত্র থেকে এই ঘটনার বিস্তারিত ও ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, নিউইয়র্ক নগরের জ্যামাইকা এলাকার সাটফিন বুলেভার্ডে অবস্থিত ‘মসজিদ বিলাল কুইন্স ইসলামিক সেন্টার’-এ একাধিক কন্যাশিশুকে যৌন নিপীড়ন করেন অভিযুক্ত তাজুল ইসলাম। এর মধ্যে গত ২১ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে মসজিদের ভেতর ১০ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুর স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে তাকে যৌন নিপীড়ন করেন তিনি। এরপর গত ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় একইভাবে আরও এক ১০ বছর বয়সী কন্যাশিশুকে যৌন হয়রানির শিকার হতে হয় তাঁর লালসার কাছে।
গ্রেপ্তারের পর গত ২৮ এপ্রিল মামলার শুনানিতে অভিযুক্ত তাজুল ইসলাম বিচারকের সামনে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তবে অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে আদালত তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ মাত্রার (ফার্স্ট ডিগ্রি) যৌন নির্যাতন, জোরপূর্বক স্পর্শ করা এবং শিশুর কল্যাণ বিপন্ন করার মতো ১২টি গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। শুনানিতে আদালত তাজুলের জামিন হিসেবে ২৫ হাজার ডলার নগদ অথবা সমপরিমাণ বন্ড নির্ধারণ করেন। সেই সঙ্গে জামিনে থাকাকালীন ভুক্তভোগী শিশুদের থেকে তাকে সম্পূর্ণ দূরে থাকার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। এদিকে এনওয়াইপিডি ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রেখেছে এবং এ ধরনের আরও ভুক্তভোগী থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
আরও
মসজিদের মতো পবিত্র স্থানে একজন ইমামের এমন বিকৃত আচরণের ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর নিউইয়র্কের বাঙালি কমিউনিটিতে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। জ্যাকসন হাইটস অঞ্চলের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বাসিন্দা রিমন ইসলাম এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রথম আলোকে বলেন, ‘তাজুল ইসলামের এই জঘন্য কাজের কারণে আজ পুরো বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। নিউইয়র্কের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর কাছে আমাদের অকারণে ছোট হতে হচ্ছে।’ ক্ষুব্ধ প্রবাসীরা এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধে জড়িত ব্যক্তির সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।











