সর্বশেষ

শত্রুপক্ষকে সহায়তা করলে ভিসা বাতিল!

Image 30615Probashir city Popup 19 03

ভিসানীতিতে বড় ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করে নতুন এক দুঃসংবাদ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পশ্চিম গোলার্ধে যারা আমেরিকার শত্রুদের সমর্থন করবে কিংবা এ অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থের পরিপন্থী কাজে লিপ্ত হবে, তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা সীমিত করা হবে।

গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, নতুন এই নীতির আওতায় ইতিমধ্যে ২৬ জন ব্যক্তির ভিসা বাতিল করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে পশ্চিম গোলার্ধে মার্কিন প্রভাব পুনরুদ্ধারের যে বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন, তাকে তিনি ‘ডনরো ডকট্রিন’ নামে অভিহিত করেছেন (যা মূলত উনবিংশ শতাব্দীর ঐতিহাসিক ‘মনরো ডকট্রিন’-এর আধুনিক সংস্করণ)। সদ্য ঘোষিত এই পদক্ষেপ মূলত সেই পরিকল্পনারই অংশ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই বিস্তৃত ভিসা নিষেধাজ্ঞা মূলত তাদের ওপরই কার্যকর হবে, যারা জেনেবুঝে যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুদের নির্দেশদাতা বা উল্লেখযোগ্য সহায়তাকারী হিসেবে কাজ করবে। এর মধ্যে রয়েছে—শত্রুপক্ষকে কৌশলগত সম্পদ ও উপকরণ অর্জনে সহায়তা করা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা বজায় রাখার মার্কিন প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করা, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং কোনো দেশের স্থিতিশীলতা দুর্বল করতে প্রভাব বিস্তার করা।

বিবৃতিতে নির্দিষ্ট করে কোনো দেশের নাম উল্লেখ না থাকলেও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, লাতিন আমেরিকায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব কমানো এবং মাদক পাচার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতেই এই কৌশল হাতে নেওয়া হয়েছে।

আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যে ইরান সরকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত অথবা ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের সঙ্গে জড়িত পরিবারের সদস্যদের মধ্য থেকে অন্তত সাতজনের অভিবাসন ভিসা বাতিল করেছে। এ ছাড়া গত বছর থেকে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনকারী এবং কিছু শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধেও একই ধরনের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এসব ব্যক্তির উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

নতুন এই নীতি কেবল অপরাধীদের ওপর নয়, বরং ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচক এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের ওপরও প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর আগে ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেকসান্দ্রে দে মোরায়েস এবং কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নামও ভিসা বাতিলের তালিকায় এসেছিল। যদিও পেত্রোকে পরে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এসব ঘটনাপ্রবাহ থেকে স্পষ্ট যে, ট্রাম্প প্রশাসন তার বৈদেশিক প্রভাব বিস্তারে ভিসানীতিকে এখন অন্যতম প্রধান একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

Probashir city Popup 19 03
Probashir city Squre Popup 19 03