যুক্তরাজ্যে শরণার্থীদের পরিবার পুনর্মিলনের স্বয়ংক্রিয় অধিকার বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে লেবার সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আশ্রয় পাওয়া ব্যক্তিদের শুধু শরণার্থী মর্যাদা পেলেই হবে না, তাদের প্রমাণ করতে হবে যে তারা সমাজে ইতিবাচক অবদান রেখেছেন। কেবল তখনই স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানদের দেশে আনার অনুমতি দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বুধবার রাতে এক ঘোষণায় জানান, যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের পথ আরও দীর্ঘ ও কঠিন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “এখন থেকে স্থায়ীভাবে থাকার সুযোগ কেবল অবদান রাখার মাধ্যমেই অর্জন করতে হবে।” এর আগে শরণার্থী মর্যাদা পাওয়া মানেই পরিবারের সদস্যদের আনার সুযোগ পাওয়া যেত, যা নতুন পরিকল্পনায় বাতিল হচ্ছে।
সরকার জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের অনুমতি পাওয়ার ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আনা হবে। আগে পাঁচ বছর কাজ করা বা পরিবারের কারও উপস্থিতি থাকলেই স্থায়ী বসবাসের (আইএলআর) আবেদন করা যেত। নতুন নিয়মে কমপক্ষে ১০ বছর বসবাস, সামাজিক সুরক্ষা তহবিলে অবদান রাখা, উন্নত ইংরেজি জানা, সরকারি ভাতা না নেওয়া এবং স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যুক্ত থাকার শর্ত পূরণ করতে হবে।
আরও
মানবাধিকার আইন ও আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার কনভেনশনের ব্যাখ্যাতেও পরিবর্তন আনার ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার। স্টারমারের ভাষ্যে, আইন ভাঙা হবে না, তবে সময়ের প্রেক্ষাপটে এর প্রয়োগের ব্যাখ্যা বদলানো প্রয়োজন। এর লক্ষ্য হলো আশ্রয়ের আবেদন সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনা।
সরকারি তথ্য বলছে, গত এক বছরে প্রায় ২১ হাজার পরিবার পুনর্মিলনের ভিসা দেওয়া হয়েছে, যার বেশিরভাগই নারী ও শিশুদের জন্য। একই সময়ে আশ্রয়ের আবেদন জমা পড়েছে এক লাখেরও বেশি—যা গত দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। এছাড়া এ বছরই ছোট নৌকায় চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ৩৩ হাজার মানুষ যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছেন, যা নতুন রেকর্ড।











