দক্ষিণ আফ্রিকায় নিখোঁজ এক ব্যবসায়ীর সন্ধানে চালানো পুলিশি অভিযানে কোমাটি নদীতে এক হাড়হিম করা ঘটনা ঘটেছে। নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে ড্রোন ও হেলিকপ্টার দিয়ে ব্যাপক তল্লাশি চালানোর সময় নদীর একটি দ্বীপে বিশালাকার এক কুমিরকে শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে কুমিরটিকে পরীক্ষা করে তার পেটের ভেতর মানুষের হাড়ের পাশাপাশি আশ্চর্যজনকভাবে ছয় ধরনের ভিন্ন ভিন্ন জুতো পাওয়া গেছে। এই চাঞ্চল্যকর এবং ভীতিজনক আবিষ্কার এখন গোটা দক্ষিণ আফ্রিকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যম বিবিসির বরাত দিয়ে এই রোমাঞ্চকর খবরটি ছড়িয়ে পড়েছে।
এই পুরো অভিযানের প্রধান নায়ক এবং বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার ‘টক অফ দ্য টাউন’ হলেন পুলিশের অসীম সাহসী কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন জোহান পটগিটার। সাড়ে চার মিটার লম্বা এবং প্রায় ৫০০ কেজি ওজনের কুমিরটিকে কোমাটি নদীর একটি দ্বীপে নিশ্চল অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়। ধারণা করা হয়, প্রাণীটি সম্প্রতি বড় কিছু খেয়েছে। প্রাণীটিকে মেরে ফেলা হলেও সেটিকে উদ্ধার করা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো মুহূর্তে অন্য কুমিরের আক্রমণের ভয় থাকলেও তা পরোয়া করেননি ক্যাপ্টেন জোহান। তিনি চলন্ত হেলিকপ্টার থেকে দড়ি বেয়ে সরাসরি কুমির অধ্যুষিত নদীতে নেমে যান এবং নিশ্চল কুমিরটিকে শক্ত করে বেঁধে ফেলেন।
কুমিরটিকে বেঁধে ফেলার পর হেলিকপ্টারের সাহায্যে ক্যাপ্টেন জোহান এবং কুমির—উভয়কেই নদী থেকে নিরাপদে তুলে আনা হয়। কুমিরটিকে ব্যবচ্ছেদ করে পরীক্ষা করার পর তার পেটের ভেতর আসলেই মানুষের দেহাবশেষ মিলেছে। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের জন্য সবচেয়ে ভীতিজনক বিষয় ছিল, সেখানে মানুষের হাড়ের পাশাপাশি ছয় ধরনের ভিন্ন ভিন্ন জুতো পাওয়া গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, এই বিশালাকার কুমিরটি ইতিপূর্বেও একাধিক মানুষকে শিকার করেছে। এই ভয়াবহ আবিষ্কার দক্ষিণ আফ্রিকার বন্যপ্রাণী ও স্থানীয় মানুষের মধ্যকার সংঘাতের এক ভয়াবহ রূপ সামনে নিয়ে এসেছে।
আরও
উদ্ধারকৃত দেহাবশেষটি নিখোঁজ ব্যবসায়ীর কি না, তা এখন ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। উল্লেখ্য, নিখোঁজ ব্যবসায়ীর গাড়িটি গত সপ্তাহে ভয়াবহ বন্যার পানির স্রোতে ভেসে গিয়েছিল। এই জটিল এবং চরম ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে অবিশ্বাস্য বীরত্ব ও সাহসিকতা দেখানোর জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ প্রধান ক্যাপ্টেন জোহানের বিশেষ প্রশংসা করেছেন। এদিকে, ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষা এবং কুমিরের পেটে পাওয়া অন্যান্য জুতোর রহস্য উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।










