সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ লক্ষ্য করে শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। তবে মাটিতে আঘাত হানার আগেই ধেয়ে আসা সেই বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। আকস্মিক এই হামলার পরপরই রাজধানী রিয়াদসহ দেশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। যেকোনো সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সাধারণ মানুষকে দ্রুত নিরাপদে সরিয়ে নিতে বাজানো হয় সতর্কতামূলক সাইরেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ রিয়াদে সম্ভাব্য বিপদের সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করে। নাগরিকদের দ্রুত নিকটবর্তী নিরাপদ স্থানে বা শেল্টারে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। শুধু রাজধানী রিয়াদ নয়, দেশটির অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত পূর্বাঞ্চলীয় দাম্মাম শহর এবং আল-আহসা ও আবকাইক অঞ্চলেও একযোগে এই সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। হঠাৎ এমন সতর্কবার্তায় স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রবাসীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এসব এলাকায় বিপদের সাইরেন বাজার কিছু সময় পরই হুতিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিহত করার খবর নিশ্চিত করে সৌদি সামরিক জোট। জোটের পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়, তাদের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ইয়েমেন থেকে আসা ওই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি আকাশে থাকতেই ধ্বংস করে দিয়েছে। এর ফলে বড় কোনো বিপদ বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে ধ্বংস হওয়া ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরো বা ধ্বংসাবশেষ লোকালয়ে পড়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
আরও
উল্লেখ্য, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশটি কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা। এখানেই রয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল কোম্পানি আরামকোর বেশ কয়েকটি বড় স্থাপনা। এর আগেও হুতি বিদ্রোহীরা এই তেলসমৃদ্ধ অঞ্চল লক্ষ্য করে একাধিকবার ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে। মূলত ২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় আনতে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। এরপর থেকেই প্রতিশোধ হিসেবে প্রায় নিয়মিত সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর, বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে হুতি বিদ্রোহীরা। রোববারের এই হামলাও সেই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতেরই একটি অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।









