আরব সাগরে টানা ৪৮ ঘণ্টার এক শ্বাসরুদ্ধকর ও দুঃসাহসিক অভিযান চালিয়ে সোমালি জলদস্যুদের হাতে জিম্মি হওয়া একটি ইরানি মাছ ধরার জাহাজ (ফিশিং ভেসেল) সফলভাবে উদ্ধার করেছে ভারতীয় নৌবাহিনী। সোমবার (২ নভেম্বর) ভারতের মুম্বাই উপকূল থেকে প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার দূরে গভীর সমুদ্রে এই নিখুঁত অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় জলদস্যুদের হাত থেকে জাহাজটিতে থাকা ২০ জন নাবিককে সম্পূর্ণ জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন নৌবাহিনীর চৌকস সদস্যরা। ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর এই জিম্মি উদ্ধারের খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) তথ্যমতে, গত ২৯ অক্টোবর উত্তর-পূর্ব সোমালিয়ার উপকূলীয় শহর বান্দার বায়লা এবং হাফুনের মধ্যবর্তী সামুদ্রিক অঞ্চল থেকে ‘আজিনি’ নামের ওই ইরানি ফিশিং ভেসেলটি ছিনতাই করেছিল সোমালি জলদস্যুর দল। জাহাজটি জিম্মি করার খবর পাওয়ার পরপরই ভারতীয় নৌবাহিনী দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। ভারতীয় বিমানবাহিনীর নিবিড় নজরদারি ও সহায়তায় টানা ৪৮ ঘণ্টার নিরবচ্ছিন্ন অভিযানের পর জাহাজটির পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয় তারা।
নিখুঁত ও সফল এই জিম্মি উদ্ধার অভিযানের জন্য ভারতীয় নৌবাহিনীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, বিমানবাহিনীর সময়োপযোগী সহায়তায় মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত জলদস্যুদের হাত থেকে দ্রুত জাহাজ শনাক্তকরণ, তাদের পথরোধ এবং নাবিকদের নিরাপদে মুক্ত করার এই সাফল্য ভারতীয় নৌবাহিনীর উচ্চ যুদ্ধপ্রস্তুতি ও যেকোনো সামুদ্রিক হুমকি মোকাবিলায় কার্যকর সক্ষমতারই চূড়ান্ত প্রমাণ। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই দুঃসাহসিক অভিযান ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার ও জীবন রক্ষায় ভারতের অঙ্গীকারকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করেছে। উল্লেখ্য, বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্য ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ২০০৮ সালের ২৩ অক্টোবর থেকে অ্যাডেন উপসাগরে সার্বক্ষণিক জলদস্যুবিরোধী টহল দিয়ে আসছে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ।










