সউদী আরবে বিচারব্যবস্থার কঠোরতা এবং আগাম নোটিশ ছাড়া মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিষয়টি অনেক সময়ই সমালোচনার জন্ম দেয়। ২০১৯ সালে ভারতের পাঞ্জাবের দুই তরুণ সতবিন্দর কুমার ও হরজিৎ সিংয়ের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনাটি এর একটি বড় উদাহরণ। ভারতের কোনো কূটনৈতিক দপ্তর বা দূতাবাসকে না জানিয়েই তাদের শিরচ্ছেদ করা হয়। এমনকি ভারত সরকারের শত চেষ্টার পরও সউদী আইনের কড়াকড়ির কারণে নিহতদের মরদেহ দেশে ফেরানো সম্ভব হয়নি।
কাজের খোঁজে সউদী আরবে গিয়ে লুণ্ঠিত অর্থের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে নিজেদের মধ্যে মারামারির একপর্যায়ে আরিফ ইমামউদ্দিন নামের এক ভারতীয় সহকর্মীকে হত্যা করেন তারা। প্রথমে মদপান ও প্রকাশ্যে মারামারির অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেও পরে তদন্তে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি প্রমাণিত হয়। বিচারে দোষ স্বীকার করার পর তাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র ছিনতাইয়ের (হিরাবাহ) মতো গুরুতর অভিযোগ এনে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
২০১৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সউদী কর্তৃপক্ষ। সতবিন্দরের স্ত্রীর আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রায় দেড় মাস পর বিষয়টি ভারত সরকার ও গণমাধ্যমে জানাজানি হয়। এরপর ভারত সরকার মরদেহগুলো দেশে ফিরিয়ে আনতে বারবার কূটনৈতিক আবেদন করলেও সউদী আরবের প্রচলিত আইনে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মৃতদেহ হস্তান্তরের বিধান না থাকায় তা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনার পর সউদীতে প্রবাসী ভারতীয়দের আইনি সুরক্ষা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও উদ্বেগ দেখা দেয়।









