যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় আলোচনার টেবিলে বসতে মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের মাধ্যমে তিনটি সুনির্দিষ্ট শর্ত জুড়ে দিয়েছে ইরান। দেশটির শীর্ষস্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাই কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝেই সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ একাধিক শহরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা নস্যাৎ করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।
কাতারের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে পাঠানো ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান দাবি হলো—সব ফ্রন্টে চলমান যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। এর পাশাপাশি বিদেশে আটকে থাকা ইরানের জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ অর্থ ছাড় করা এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের কথাও বলা হয়েছে। মোহসেন রেজাই স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন যদি এসব শর্ত পুরোপুরি মেনে নেয়, কেবল তবেই তাদের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার পথ উন্মুক্ত হতে পারে।
এদিকে, আঞ্চলিক উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি জোট। রিয়াদ ছাড়াও বিশা, তায়েফ, ফারাসান ও ইয়ানবু শহরে বেশ কয়েকটি হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে বলে জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। মূলত ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করেই এসব হামলার পাল্টা অভিযোগ তুলেছে রিয়াদ।
আরও
মধ্যপ্রাচ্যের এই চলমান সংঘাত এবং সৌদি-হুথি উত্তেজনার জেরে ওই অঞ্চলে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে বলে গভীরভাবে আশঙ্কা করছে যুক্তরাষ্ট্র। পরিস্থিতি যেকোনো সময় দ্রুত আরও অবনতির দিকে যেতে পারে—এমন সতর্কতা জারি করে মধ্যপ্রাচ্যের নয়টি দেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: আলজাজিরা










