কাতারে নিখোঁজ তিন ইরানি পাইলটের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে ইরান। তাঁদের ভাগ্যে ঠিক কী ঘটেছে, তা নিশ্চিত করতে কাতারে একটি ইরানি তদন্তকারী দল পাঠানোর অনুমতি দিতে দোহার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তেহরান। গতকাল রোববার (১৬ আগস্ট) ইরাকি বার্তা সংস্থা শাফাক নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান কমিটির প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোহাম্মদ বাঘেরজাদেহ অভিযোগ করেছেন, কাতারি কর্মকর্তারা এ তদন্তে বারবার কালক্ষেপণ করছেন। পাশাপাশি নিখোঁজ পাইলটদের ইরানে ফেরানোর প্রক্রিয়াও তাঁরা আটকে দিচ্ছেন। নিখোঁজ ওই তিন পাইলট হলেন—জাভাদ সালেহি, আবদোলমজিদ দাশতিয়ান ও ওমরান বেহরাভেশিয়ান। ইরানের দাবি, গত ২ মার্চ দুটি ইরানি এসইউ-২৪ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর এই তিন পাইলট প্রাণে বেঁচে যান এবং কাতারি বাহিনীর হাতে আটক হন। ওই ঘটনায় মাজিদ কাজেমি নামের চতুর্থ এক পাইলট নিহত হন, যাঁর মরদেহ পরে ইরানে ফেরত পাঠানো হয়েছিল।
তবে ইরানের এই দাবি পুরোপুরি অস্বীকার করেছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানান, ইরানি বিমান দুটি কাতারের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করেছিল। তাই কাতারের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আন্তর্জাতিক আইন মেনেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে কাতারি বাহিনী। তবে পাইলটদের আটক করার ইরানি দাবিটি সঠিক নয় বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি।
আরও
এ ঘটনার বিষয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের বরাত দিয়ে আরও কিছু তথ্য সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দোহার একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে অভিযান চালিয়ে ফেরার পথে কাতারের আকাশসীমায় ঢুকে পড়েছিল বিমান দুটি। কাতার রেডিও বার্তার মাধ্যমে সতর্ক করলেও ইরানি বিমানের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি বলে দাবি করা হয়েছে। এরপর বিমান দুটিকে শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে গুলি করে ভূপাতিত করে কাতারি যুদ্ধবিমান। এমন পরিস্থিতিতে নিখোঁজ তিন পাইলটের বর্তমান অবস্থান ও পরিণতি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটিরও হস্তক্ষেপ চেয়েছে তেহরান।










